মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

News Headline :
চারঘাটে আমবাগান থেকে ২০০ পিস ভারতীয় ইয়াবা জব্দ মধুুমাস ঋতুরাজ বসন্ত মাসে প্রকৃতি তার নিজেকে সাঁজাতে ব্যস্ত থাকে অবহেলিত পাবনাকে উন্নয়নের শিখরে নিতে পাবনা সদরে মন্ত্রী দিতে তারেক রহমানের প্রতি পাবনাবাসীর আহবান রাজশাহী নগরীতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে শ্রমিক নিহত রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ থিম ওমর প্লাজা পরিচালনা, মামলা ও সমঝোতা নিয়ে থিম রিয়েল এস্টেট জাকির এন্টারপ্রাইজের কাহিনি মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর  সংবাদ সম্মেলন পাবনায় যাত্রীবাহি ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫জন নিহত ২০জন আহত পাবনায় জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এরই প্রতিবাদে বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন পাবনায় জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষনা

প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে রংপুরের প্রাণিকূলেও হাঁসফাঁস

Reading Time: 2 minutes

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর॥
ভরা বর্ষাকালেও চৈত্র-বৈশাখের মতো তাপদাহে পুড়ছে রংপুর নগরীসহ উত্তরের আট জেলা। স্মরণকালের প্রচ- গরম আর তাপদাহে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকূলেও হাঁসফাঁস উঠেছে। এ অঞ্চলের প্রাণিগুলোও একটু শীতল পরশের জন্য ছটফট করছে।
রোববার দুপুরে রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্তৃপক্ষ প্রাণিকূলের শরীর ঠিক রাখতে পানি দিয়ে গোসল করাচ্ছেন। সেই সাথে স্যাভলন দিয়ে প্রাণির খাঁচা পরিষ্কার করছেন। বিশেষ করে সঙ্গিহীন প্রাণিগুলোর চোখের চাহনি করুণ। তাদের দিকে তাকালে দর্শনার্থীদের কষ্ট হয়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে মানুষের পাশাপাশি জীবজগতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রংপুরে জুলাই মাসে নরমাল বৃষ্টিপাত হয় ৪৫৩ মিলিমিটার। অথচ জুলাই মাসের ১৫ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বৃষ্টি হয়েছে ২ জুলাই মাত্র ১৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ আষাঢ়ের শেষ ১৫ দিনে কোনো বৃষ্টির দেখা পায়নি এই অঞ্চলের মানুষ। জুন মাসে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৮৪ মিলিমিটার। এই বৃষ্টি হয়েছে জুনের প্রথম দিকে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে বাংলা মাসের আষাঢ়ে বৃষ্টির হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, আষাঢ়ে এমন আবহাওয়া গত ৩ দশকেও দেখা যায়নি। অথচ আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল। আষাঢ় মাসে আগে একটানা কয়েকদিন বৃষ্টি হতো। কিন্তু জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে আষাঢ়ের বৃষ্টি হারিয়ে এখন হয়েছে অতীতের স্মৃতি।
আজ রোববার রংপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর আগে শনিবার রংপুরে তামপাত্রা ছিল ৩৬. ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, শুক্রবার ৩৮.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাপমাত্রার ওঠানামার এমন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি প্রাণি জগতেও অস্বস্তি নেমে এসেছে। রংপুর চিডিয়াখান সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর একটি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৯ সালে রংপুর নগরীর হনুমানতলা এলাকায় গড়ে তোলেন রংপুর চিড়িয়াখানা। এটি দর্শনার্থীদের জন্য ৯২ সালে খুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানা। প্রতিদিন এখানে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়। রংপুর চিড়িয়াখানায় ৩২ প্রজাতির প্রায় ২২৪ প্রাণি রয়েছে। চিড়িয়াখানায় যে সব প্রাণি রয়েছে সেগুলো হলো- সিংহ দুটি, জলহস্তী ৩টি, ময়ূর ৮টি, হরিণ ৫৯টি, অজগর সাপ দুটি, ইমু ৩টি, উটপাখি একটি, বানর ৯টি, কেশওয়ারি একটি, গাধা ৩টি, ঘোড়া ২টি ও ভাল্লুক একটি উল্লেখযোগ্য।
এসব প্রাণিগুলোর মধ্যে নিঃসঙ্গ অবস্থায় রয়েছে উটপাখি, ভাল্লুক, হনুমান ও কেশওয়ারি। দীর্ঘদিন থেকে কর্তৃপক্ষ এই প্রাণিগুলোর সঙ্গি আনার জন্য ঢাকায় আবেদন করলেও তা গ্রাহ্য হয়নি। এছাড়া চিড়িয়াখানার একমাত্র বাঘিনী শাওন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছে। বাঘিনীটিও দীর্ঘদিন সঙ্গিহীন অবস্থায় ছিল। রংপুর চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা ডা. সাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রচ- গরমে মানুষের যেমন অস্বস্তি হচ্ছে। তেমনি প্রাণিদের অস্বস্তি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাণিদের পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্যাভলন দিয়ে খাঁচা সব সময় পরিষ্কার করা হচ্ছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২-৩ দিনের আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com