মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
তানোরে বিএমডিএ’র উদ্যোগে খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি পাবনা জেলায় চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১২ জন গ্রেপ্তার পাবনা থানা পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালনা বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল-রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নওগাঁর বদলগাছীতে ধান বোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধার মৃত্যু পাবনায় আওয়ামী দোষর ছাত্রহত্যা মামলার আসামী পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ আশে পাশের অফিসগুলো নিয়ন্ত্রন করছেন রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার-৩ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেফতার  পাবনার আতাইকুলায় ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তের বাড়ি দোকানঘরে আগুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন পাবনা  ঈশ্বরদীর ৬ জনসহ জেলার মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযানে ১১ জন গ্রেপ্তার

মিঠাপুকুরে সাদা কাগজে বিয়ে রেজিস্ট্রি! পালিয়েছে বর দিশেহারা কনে পরিবার

Reading Time: 2 minutes

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মী ফরিদুল ইসলাম। প্রায় দু’বছর ধরে তিনি ছড়ান-বালুয়া এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এরই সুত্র ধরে বালুয়া মাসিমপুর পলিপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে তার। সম্প্রতি দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়ভাবে কাজী ডেকে রেজিস্ট্রি মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো হয়। কিছুদিন পর ওই মাঠকর্মী স্ত্রীকে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মেয়ের পরিবারের লোকজন বিয়ে রেজিস্ট্রির নকল তুলতে গেলে কাজী তাদেরকে সাদা কাগজে লেখা একটি অঙ্গিকারনামা হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারিত ওই মেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু, এ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ।
সরেজমিনে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের ছড়ান গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মী প্রেমিক ফরিদুল ইসলাম ও বালুয়া পলিপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে প্রেমিকা নুর নাহারকে আটকের পর স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক বসে। সেখানে মাঠকর্মী ফরিদুল ইসলাম ঘটনাটি মিমাংসার জন্য আড়াই লাখ টাকায় রফাদফার প্রস্তাব দেন। কিন্তু, প্রেমিকা রাজী না হওয়ায় বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজীকে ডাকা হয়।
শালিস বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে বিভিন্নভাবে রফাদফার পরিকল্পনা চলছিল। এক পর্যায়ে জানা যায়, প্রেমিক ও প্রেমিকার উভয়ের বিবাহিত। একারণে, প্রেমিকা নুর নাহার বেগমের আগের স্বামীকে তালাক দিতে বলেন কাজী। সে অনুপাতে প্রথম স্বামীকে একপক্ষ তালাক প্রদান করা হয়। পরে প্রেমিক ফরিদুল ইসলামের সাথে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ও ১ লাখ টাকা নগদ বুঝিয়ে দিয়ে বিয়ে হয়। কাজী নিজেই বিয়ে পরিচালনা করেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত নুর নাহারের মামাতো ভাই সাহেব আলী বলেন, বিয়ে সময় কাজী রেজিস্ট্রির বইয়ে না লিখে সাদা কাগজে অঙ্গিকারনামা ও স্বীকারোক্তিপত্র লিখে রাখেন। সেখানে ফরিদুল ইসলাম ও নুর নাহার বেগমের স্বাক্ষর গ্রহন করা হয়। স্বাক্ষী হিসেবে আরও কয়েকজনের স্বাক্ষর রয়েছে ওই অঙ্গিকারনামায়।
নুর নাহার বেগমের মা সুরুতন বেগম বলেন, ছেলেপক্ষকে কৌশলে বাঁচাতে কাজী সাদা কাগজে বিয়ে রেজিস্টি করেন। দু’দিন পরে ছেলে পালিয়ে যায়। কাজী রেজিস্টির কোন কাগজ আমাদের দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, আমরা থানায় মামলা দিতে গেলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। আমরা অসহায়-গবীর মানুষ, আমাদের কথা কেউ শুনছেনা।
নুর নাহার বেগম বলেন, কাজী আমার প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে সাদা কাগজে দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্টি করেছেন। আমরা কাজীর চালাকি বুঝতে পারিনি। আমি এর বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, সেদিনের ঘটনায় কাজী ছেলে পক্ষের কাছে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। একারণে, তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, মেয়ের সঙ্গে কাজী ও বেঠকে উপস্থিত বিচারকেরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেছেন। মেয়েটিকে দিয়ে প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়া হয়েছে। পরের বিয়েটিও সাদা কাগজে রেজিস্টি দেখানো হয়েছে। এরফলে, মেয়েটি কুল-কিনার পাচ্ছে না। এর বিচার হওয়া দরকার।
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের অভিযুক্ত কাজী আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সালিশ বৈঠকে উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রথম স্বামীকে তালাক প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় বিয়ে আমি নিজেই পরিয়েছি। ছেলের পূর্বের স্ত্রী-সন্তান থাকায় সাদা কাগজে বিয়ে রেজিস্টি করা হয়েছে।
মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে মামলা নথিভুক্ত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com