সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

News Headline :
বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে রাজশাহীতে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ ‘তেলের জন্য ভোগান্তি বাড়তেছে, কমার কোনো লক্ষণই দেখতেছি না’ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা হয়নি, ট্রাম্পের সামনে বিকল্প কী কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে মাত্র এক বৈঠকেই সমাধান প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়: পাক-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রামেকে হামের প্রকোপে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, পিআইসিইউ সংকটে ঝরছে প্রাণ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চো অগ্রাধিকার দিতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহীতে সারের সংকট ও কালোবাজারি: বিপাকে কৃষকরা কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

রাজশাহীতে সারের সংকট ও কালোবাজারি: বিপাকে কৃষকরা

Reading Time: 2 minutes

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় আমন মৌসুমকে সামনে রেখে তীব্র সারের সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ডিলারদের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না, বরং একই সার খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ১নং ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের কৃষক মোঃ আরিফ রায়হান বলেন, আমার আব্বা মোঃ আব্দুস শুকুর ৮১সাল থেকে কৃষি খামার পরিচালনা করছেন। তিনি তালিকাভুক্ত চাষিদের একজন।

৬৬বছর বয়সী এই খামাররি বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ২০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একই জমিতে ২৮ জাতের ধান, ভুট্টা তিন বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে কিন্তু সারের সংকটে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডিলারদের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কালোবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক বাঁধন জানান, সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার টাকা হলেও ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

তানোর উপজেলার কৃষক আলিফ হোসেন বলেন, এ দুই উপজেলার কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে কিছু ডিলার নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সার সরবরাহ করছেন, ফলে সাধারণ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজে-কলমে সার বিক্রির হিসাব দেখানো হচ্ছে।

রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ চব্বিশ নগরের এক কৃষক জানান, দামকুড়া হাটের ইসলাম ট্রেডার্সে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। যদিও জেলা সার ডিলার সমিতির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে, তবে তারা কীভাবে সার ব্যবহার করছে তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে জেলা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম দাবি করেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়া হয় এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং চড়া দামে বিক্রির বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিলারদের দোকানে টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ আমন মৌসুমের চারা রোপণের আগে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি ডিএপি সারের প্রয়োজন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসে বিসিআইসির ৮৯ জন ডিলারের জন্য ১২৫ মেট্রিক টন এবং বিএডিসির ১২১ ডিলারের জন্য ৪৮৩ মেট্রিক টন টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিএপি ও এমওপি সারেরও বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। মার্চ মাসেও প্রায় একই পরিমাণ সার সরবরাহ করা হয়েছিল।

তবুও কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের দোকানে সার না পাওয়া গেলেও আশপাশের হাট-বাজারে তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সারের কালোবাজারি চললেও প্রতিকার মিলছে না বলে তারা জানান।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত সারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজারি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com