সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
বৈচিত্রের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে রাজশাহীতে উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ ‘তেলের জন্য ভোগান্তি বাড়তেছে, কমার কোনো লক্ষণই দেখতেছি না’ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা হয়নি, ট্রাম্পের সামনে বিকল্প কী কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে মাত্র এক বৈঠকেই সমাধান প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়: পাক-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রামেকে হামের প্রকোপে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, পিআইসিইউ সংকটে ঝরছে প্রাণ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চো অগ্রাধিকার দিতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী রাজশাহীতে সারের সংকট ও কালোবাজারি: বিপাকে কৃষকরা কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, ভাঙচুর-আগুন

রামেকে হামের প্রকোপে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, পিআইসিইউ সংকটে ঝরছে প্রাণ

Reading Time: 2 minutes

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষ করে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (পিআইসিইউ) সংকটের কারণে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাবনার বাসিন্দা চামেলী খাতুনের দুই মাসের শিশু নেহা বৃহস্পতিবার সকালে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হামে আক্রান্ত নেহা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পিআইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি। শিশুর মা জানায়, হঠাৎ করেই শিশুটি ছটফট শুরু করলে নার্সরা অক্সিজেন ও ইনজেকশন দেন, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি বাড়তে থাকে। শনিবার পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৫৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ৫৩৫ জন।

একই দিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার টেকালা গ্রামের কৃষক সুইট রানার ছয় মাস বয়সী ছেলে শামিউল ইসলামও মারা যায়। টানা ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তার বাবা। এ ঘটনায় তার মা পলি খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, তার সন্তান হামের টিকা পায়নি, টিকা পেলে হয়তো এমন পরিণতি হতো না।

হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রামেক হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। তবে রোগীর চাপ ও সীমিত সুবিধার কারণে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক শিশুই অক্সিজেন ও স্যালাইনের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। একটি মনিটরিং টিমও কাজ করছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭৯ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এতে ১৬১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। বিভাগজুড়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৮ জেলার ১০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং ৬ মাস বয়স হলেই শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com