মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিপাকে অভিযোগকারী ৫ পরিবার Reading Time: 2 minutes
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক সম্রাজ্ঞী, চাঁদাবাজ “বস্তিপাড়ার অন্ধকারের রানী” নামে পরিচিত আলেয়া বেগমের (৩৬) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিযোগকারী ৫ পরিবার।
চাঁদাবাজ আলেয়া বেগমের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে নানা রকম হুমকি ও ধামকী। দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। এখন তাই অনেকটায় পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে অভিযোগকারীদের। সোমবার (৯ মার্চ) শহরের নুর মহল্লা বস্তিপাড়া ঘুরে ভুক্তভোগিদের সুত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থানায় চাঁদাবাজ আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়ানোর পরিবারগুলো হলো বস্তিপাড়া এলাকার মো. আসাদুল ইসলাম, মো. কাজল, আসাদুল ইসলাম ওরফে তরমুজ আসাদ, হেলালের স্ত্রী মোছা. নিপা খাতুন ও দীপা রাণী।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও এলাকাবাসীদের সুত্রে জানা যায়, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলের ১৭ বছর উপজেলার পৌর শহরের নুর মহল্লা বস্তিপাড়ায় যুব মহিলালীগের নেত্রী হিসেবে আলেয়া বেগম চাঁদাবাজি, মাদক বিক্রয়সহ অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়েছিলো।
৫ জুলাইয়ের পর থেকে আলেয়া বেগম ভোল পাল্টিয়ে পৌর যুব মহিলা দলের নেত্রী হিসেবে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাদের ছত্রছায়ায় অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ করায় আলেয়া বেগমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী মুশফিকুর রহমান মিশন নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে পুলিশী হয়রানি করিয়েছেন। জেল হাজত খাটিয়েছেন। আলেয়া বেগমের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রেফতারের দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শহরের নুরমহল্লা বস্তিপাড়াবাসী। গ্রেফতারের দাবীতে ঝাড়– নিয়ে করা হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন। ভুক্তভোগিদের পক্ষ থেকে বস্তির অন্ধকারের রানী আলেয়ার বিরুদ্ধে একদিনেই ৫টি অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আসাদুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও রহুস্যজনক কারণে পুলিশ চঁাদাবাজ ও সন্ত্রাসী আলেয়া বেগম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। এই কারণে আলেয়া বেগম তাদের প্রাণ নাশসহ মামলায় ফঁাসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করছেন।
নিপা খাতুন জানান, মাদক সম্রাজ্ঞী আলেয়া বেগমের নানা রকম অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজত খাটিয়েছেন। এলাকার কেউ এখন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করছেন না। থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় তিনি নিজেই পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও দাবী করেন।
ঈশ্বরদী থানায় বিকেলে দায়িত্বরত এএসআই মো. রিপন জানান, আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে মোট ৫ টি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। আরো অনেকেই অভিযোগ দায়ের করার জন্য যোগাযোগ করেছেন।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর যুবমহিলাদলের কর্মী পরিচয় প্রদান করা বস্তির অন্ধকারের রানীখ্যাত আলেয়া বেগম বলেন, আমি আগে দেহ ব্যবসা করতাম। এখন পিঠা বিক্রয় করি। এলাকায় কেউ সমস্যায় পড়লে আমি মধ্যস্থাকারী হিসেবে সমাধান করে দিই। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাতে বিভিন্ন সময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার বলেন, আলেয়া বেগমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ থানায় এসেছে। অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।