রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

News Headline :
হরমুজের নিরাপত্তায় মিত্রদের সহযোগিতা চাইছেন ট্রাম্প জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতি পদে রাশিয়ার সমর্থন চাইলেন শামা ওবায়েদ কুষ্টিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয়পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ইরান যুদ্ধের মধ্যেই জাপানে ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া রাজশাহীতে বিপুল পরিমান ইস্কাফ সিরাপসহ মাদক কারবারী গ্রেফতার আসলাম স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পাবনার ভাঙ্গুড়া শরৎনগর হাটের টোল রেট পুনঃনির্ধারণের দাবি; জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার, অসহায়দের পাশে উপজেলা প্রশাসন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত পাবনায় মন্তাজ সরদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার বিতরণ

জুড়ীতে এপিবিএনের অভিযানে মানব পাচারকারী রুয়েল আটক

Reading Time: 2 minutes

মোঃ মাহমুদ উদ্দিন, জুড়ী মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে এপিবিএনের অভিযানে রুয়েল নামে এক মানব পাচারকারী আটক হয়েছে। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে ৭ এপিবিএনের অপস এ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স টিম জুড়ী উপজেলা সদরের এমএ মুমীত আসুক চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মানবপাচারকারি রুয়েল আহমদ (৩২) জুড়ী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৭ এপিবিএনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য এএসআই পাবেল আহমদ। এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চ ও এপ্রিলে দুটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ৭ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে সংস্থাটির অপস এ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স টিম। দীর্ঘ তদন্তে ভয়ংকর মানবপাচারকারী রুয়েল সম্পর্কে বেরিয়ে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরই মধ্যে রুয়েলের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হওয়া মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার মো. কামরুজ্জামানের স্ত্রী সৈয়দা জলি বেগম (৩০) ৭ এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক বারবারে লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের তদন্তেও রুয়েলের অপকর্মের একাধিক ঘটনা উঠে আসে। অবশেষে রবিবার বিকালে জুড়ী উপজেলাসদর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৭ এপিবিএন-এর পরিদর্শক মো. এসএম আল মামুন।
এর আগে তার বিরুদ্ধে সৈয়দা জলি বেগম বাদী হয়ে জুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় রুয়েলের বোন সীমা আক্তার, চাচাতো ভাই রকি ইসলাম ও তার আরেক সহযোগী কামরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। তবে তারা পলাতক রয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, জলির স্বামী কামরুজ্জামান শ্রমিক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে পরিচয় হয় রুহেল ও তার বোন সীমা আক্তারের সঙ্গে। একপর্যায়ে কামরুজ্জামানসহ আরো ২০/২৫ জন প্রবাসীকে বিভিন্ন প্ররোচণা ও প্রলোভন দেখিয়ে ফ্রান্স নেওয়ার কথা বলে রুহিল ও সীমা। এ বিষয়ে কামরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী গত ২০২২ সালের ১ অক্টোবর রুহেলের সহযোগী কামরুল ইসলামের কাছে কামরুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে ৮০ হাজার এবং পরদিন রুহেলের চাচাতো ভাই রকি ইসলামের কাছে নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ৭০ হাজার টাকার এনআরবিসি ব্যাংকের চেক প্রদান করা হয়। টাকা প্রদানের সময় সে বছরের ৪ অক্টোবর ফ্রান্স নিবে বলে ভিকটিম কামরুজ্জামানসহ আরো ১৮ জনকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কিরগিজস্তান নিয়ে যায় রুহেল। কিরগিজস্তান পৌছার পর দালাল রুহেল তার বিদেশি সহযোগিদের সহযোগিতায় সবাইকে একটি ঘরে আটক করে রাখে। এসময় কামরুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা রুয়েল কেড়ে নিয়ে সে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে আসে। পরে দালাল রুয়েল মুক্তিপন হিসাবে কামরুজ্জামানের পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করতে থাকে। এভাবে ৫ মাস গড়ালে কামরুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা পেয়ে রুয়েল কিরগিজস্থানে গিয়ে কামরুজ্জামানকে নিয়ে ফের সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে আসে। কিরগিজস্তান থেকে দুবাই নিয়ে আসতে বিমান ভাড়াবাবদ ৫০ হাজার টাকাও সে নেয় কামরুজ্জামানের কাছ থেকে। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ অক্টোবর রুয়েল দেশে আসলে কামরুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশি ব্যক্তিরা তার কাছে গেলে সে সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করে এবং তাদের গালাগাল করে ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। পরে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন কামরুজ্জামানের স্ত্রী।
এদিকে, ওই রুয়েল চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বাস্বান্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদেদেউলী গ্রামের যুবক সুরঞ্জিত চন্দ্র দাস। তিনিও জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। কামারুজ্জামানের মতো সুরঞ্জিতকেও এভাবে কিরগিজস্তানে নিয়ে গিয়ে আটক করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ মুক্তিপণ নেয় রুয়েল চক্র। আরব আমিরাত থেকে তাকে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায় রুয়েল। সুরঞ্জিত চন্দ্র দাস ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়া ইউনিয়নের বাদেদেউলী গ্রামের সুকুমার চন্দ্র দাসের ছেলে। একপর্যায়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেন। এপিবিএনের পুলিশ পরিদর্শক এসএম আল মামুন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার ওসি এসএম মাইন উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com