রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

News Headline :
পাবনা জেলা পুলিশ মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হরমুজের নিরাপত্তায় মিত্রদের সহযোগিতা চাইছেন ট্রাম্প জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতি পদে রাশিয়ার সমর্থন চাইলেন শামা ওবায়েদ কুষ্টিয়ায় সড়ক দূর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয়পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ইরান যুদ্ধের মধ্যেই জাপানে ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া রাজশাহীতে বিপুল পরিমান ইস্কাফ সিরাপসহ মাদক কারবারী গ্রেফতার আসলাম স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পাবনার ভাঙ্গুড়া শরৎনগর হাটের টোল রেট পুনঃনির্ধারণের দাবি; জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার, অসহায়দের পাশে উপজেলা প্রশাসন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

হরমুজের নিরাপত্তায় মিত্রদের সহযোগিতা চাইছেন ট্রাম্প

Reading Time: 2 minutes

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা জোরদারে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং সম্ভাব্য কোনো হুমকি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে অন্যান্য দেশকেও এতে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি জানান, এই উদ্যোগে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এখনই ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে যেতে তিনি প্রস্তুত নন। প্রয়োজনে ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই আহ্বান এসেছে এমন এক সময়, যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে শনিবার ভোরে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির মধ্যাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোও জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল মধ্য ইসরায়েল।

তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ পোর্টে এ আগুন জ্বলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাও সামনে আসছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে থাকা নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব ইরাক ত্যাগ করা উচিত।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ওমান থেকেও জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের আহ্বান নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইটির এর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, পরিস্থিতি জাপানকে আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, শুধু ট্রাম্পের আহ্বানেই জাপান তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না; বিষয়টি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার।

দেশটির ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষতার আইনের কারণে যুদ্ধসংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন সংক্রান্ত তিনটি বিমানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই ইরাকে সামরিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। গত ১২ মার্চ একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিমান দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন।

নিহতরা হলেন জন আ ক্লিনার, আরিয়ানা জি সাভিনো, অ্যাশলে বি প্রুইট, সেই আর কোভাল, কার্টিস জে আংস্ট এবং টাইলার এইচ সিমন্স। তারা সবাই জ্বালানিবাহী বিমান বোংয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাংকারের ক্রু ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বিমানটি যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি নিশ্চিত নন খামেনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। যদিও পরবর্তী মন্তব্যে সম্ভাব্য মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com