বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

News Headline :
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় “নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু” প্রত্যেক কেন্দ্র পরিদর্শনে নির্বাহী কর্মকর্তা রাজশাহী নগরীর সময় চত্ত্বরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত আহত ২ পাবনায় যানবাহনে তেল নিতে দীর্ঘ সারি ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা ভোগান্তি চরমে পাবনায় হাসপাতালের সামনে কিশোরকে কুপিয়ে জখম ৭ জনের নামসহ থানায় অভিযোগ মধুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে কর্মসূচী ঘোষণা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের রাজশাহী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ রাজশাহীতে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার পাবনার ভাঙ্গুড়ার কীর্তিমান সূর্যসন্তান এম হোসেন আলী বিদেশের মাটিতে প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

রামেকে পাখি হত্যায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি, আদালতে মামলা

Reading Time: 2 minutes

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাখি হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন।
গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলার বাদী বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও কোন আদেশ দেননি। আগামী রোববার আদেশ হতে পারে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আপনার কাছে মামলার বিষয়ে প্রথম শুনলাম। এটি আমার জানা নেই।’
মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, রামেক হাসপাতালে ৮০টি বন্যপাখি হত্যা ও আবাসস্থল ধ্বংসে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকা। আর পাখিগুলো হত্যায় পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে আরও দুই কোটি টাকার। মামলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। তবে কারও নাম উল্লেখ নেই।
আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, বাদী গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খবর পান যে, রামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের গাছগুলোতে বাসা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পাখির বাসা কে বা কারা নষ্ট করছে এবং পাখির ছানা হত্যা করছে। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা গাছের গুড়ি এবং ড্রেন নির্মাণের কাজ দেখতে পান। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, গাছ কাটার ফলে পাখির বাচ্চাগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন স্থানীয় লোকজন, শ্রমিক এবং রোগীর দর্শনার্থীরা আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা জবাই করে বাড়ি নিয়ে যান।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাখি হত্যার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়। বন্যপাখি হত্যা করা, মাংস, দেহের অংশ সংগ্রহ করা, শিকার ও এ জাতীয় অপরাধ সংগঠনের সহায়তা করা, প্ররোচণা প্রদান ইত্যাদি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাখির বাসস্থান ধ্বংস ও পাখিছানা হত্যা করে প্রচলিত ওই আইন অনুসারে অপরাধ করেছে। পাশাপাশি অন্যদেরকে এই অপরাধ করতে উৎসাহিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওই আইনের ৬, ৩৮ (১), (২) ও ৪১ লঙ্ঘন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এঁদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে এই পিওআর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
শত শত শামুকখোল পাখি ২০১৫-১৬ সালের দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশের বিভিন্ন গাছে থাকত। ওই সময় গাছ কেটে নির্মাণ কাজ করার কারণে পাখিগুলো বাসস্থান হারায়। এরপর পাখিগুলো রামেক হাসপাতালের আশপাশের গাছে গাছে আশ্রয় নেয়। পাখি বিষ্ঠায় পরিবেশ নষ্টের কথা বলে গতবছর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু গাছের ডালপালা কেটে ফেলে। এ নিয়ে পরিবেশবাদীরা প্রতিবাদ করলে গাছের ডাল কাটা বন্ধ হয়। কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুন গাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা জবাই করে নিয়ে যান শ্রমিক ও রোগীর স্বজনরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com