সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

News Headline :
র‌্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনার অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১ জন পলাতক আসামী গ্রেফতার কারাগারে থাকা গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ফের যৌন নিপীড়নে আরও একটি মামলা দায়ের নকলের দায়ে কিশোরগঞ্জে এসএসসি কেন্দ্রে অভিযান: তিন শিক্ষকসহ বহিষ্কার ৪ আটক ২ ব্র্যাক ডেইরির উদ্যোগে “আদর্শ দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার জনগণ ভালো থাকা মানে সরকার ভালো থাকা মধুপুরে- আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বদলগাছীতে কৃষি ও পুষ্টি উন্নয়ন বিষয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত বেতুয়ান গ্রামে গুমানি নদীর উপর স্বপ্নের ব্রিজ নির্মাণ বাস্তবায়নের পথে রাজশাহীতে আদালতের পেশকারের কাছে চাঁদা দাবি দুই বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার দুদকের ৬ মামলায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালককে জেল হাজতে প্রেরন

হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন শনাক্তে বিপাকে ইরান, অপসারণের সক্ষমতা নেই-দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

Reading Time: 2 minutes

আন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারছে না, কারণ তারা নিজেরাই পানিপথে পেতে রাখা সব নৌ-মাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং সেগুলো অপসারণের সক্ষমতাও সীমিত।

তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর সময় ইরান অত্যন্ত এলোমেলো পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। ফলে কোথায় কতগুলো মাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য রেকর্ড আছে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমনকি যেসব মাইনের অবস্থান নথিভুক্ত ছিল, সেগুলোর কিছু পানির স্রোতে ভেসে স্থান পরিবর্তন করে থাকতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও নিরাপদভাবে উন্মুক্ত করার জন্য চাপ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির কারণে ইরান তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারছে না বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান ছোট নৌযান ব্যবহার করে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে। এর সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি যুক্ত হওয়ায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।

বর্তমানে ইরান প্রণালির একটি সীমিত রুট খোলা রেখেছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে জাহাজগুলো মাইনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিরাপদ পথ নির্দেশ করে কিছু মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ স্থল মাইনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এমনকি উন্নত সামরিক সক্ষমতা থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি সময়সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ। যুক্তরাষ্ট্রও মাইন অপসারণে বিশেষায়িত জাহাজের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে প্রণালির দ্রুত ও নিরাপদ উন্মুক্তকরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’র কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। মার্কিন পক্ষ মনে করছে, এই সীমাবদ্ধতা মূলত মাইন শনাক্ত ও অপসারণে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

পরিস্থিতির জটিলতা কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করলেও দেশটির বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান এখনো কার্যকর রয়েছে, যা মাইন স্থাপন বা জাহাজে বাধা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com