সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
Reading Time: 3 minutes
মাসুদ রানা রাব্বানী,রাজশাহী:
বর্ণাঢ্য র্যালি-সহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদ্যাপিত হলো রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় আরএমপি’র ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর ভেড়িপাড়া মোড়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বর্ণাঢ্য র্যালি’র আয়োজন করে। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিপিএম (বার), পিপিএম, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ।র্যালিটি ভেড়িপাড়া মোড় হতে শুরু হয়ে পুলিশ লাইন্সে এসে শেষ হয় র্যালির পূর্বে প্রধান অতিথি বেলুন ফেস্টুন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এসময় সাথে ছিলেন আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোঃ আনিসুর রহমান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।পরবর্তীতে সকাল ১১টায় রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আলোচনা সভা শুরু হয়। এসময় প্রধান অতিথি আরএমপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’র কেট কাটেন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্বরণিকা ‘নবচেতনায় আরএমপি’-এর মোড়ক উম্মোচন করেন। এরপর আরএমপি’র উদ্যোগে তৈরিকৃত বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষী হাজির ব্যবস্থাপনা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সফটওয়ার-এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে আরএমপি’র ৩০ বছরের ইতিহাস ও সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোঃ আনিসুর রহমান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)। এসময় পুলিশ কমিশনার প্রধান অতিথি-সহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
আলোচনা সভার শুরুতেই প্রধান অতিথি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ও ১৫ই আগস্টে শাহাদত বরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যদের। সেই সাথে স্মরণ করেন শহিদ জাতীয় চার নেতাকে। শহিদ ডিআইজি মামুন মাহমুদ, শহিদ পুলিশ সুপার শাহ্ আব্দুল মজিদ-সহ সকল শহিদ বীর পুলিশ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে ‘স্মার্ট পুলিশ’-এ পরিণত করার লক্ষ্যে নিয়েছি বহুমুখী পরিকল্পনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহে বাংলাদেশ পুলিশের জনবল ও সক্ষমতা যেমন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি উন্নততর প্রযুক্তি ও সর্বোত্তম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ রাজশাহীস্থ পুলিশ ইউনিটগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহীস্থ পুলিশের রয়েছে অসামান্য অবদান এবং বর্তমানেও তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে পুলিশি দায়িত্ব পালন করে চলেছে। ঠিক একইভাবে সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবে।
আইজিপি আরও বলেন, এক সময় বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ভয়াবহ প্রকোপ ছিল। বাংলাদেশ পুলিশ তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করেছে।পুলিশ কমিশনার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ । বাংলাদেশ আজ বিশ্বের নিকট উন্নয়নের রোল মডলে।তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ সনাক্তকরণে আরএমপি-তে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর সর্বত্র সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, যা অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া হ্যালো আরএমপি অ্যাপস-এর মাধ্যমে মহানগরবাসী তাদের অভিযোগ যেনো পুলিশ কমিশনারের নিকট জানাতে পারেন, সে-ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে-কোনো ক্রাইসিস মোকাবিলায় সিআরটি টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দেখিয়েছে ঈর্ষণীয় সাফল্য।এছাড়াও তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শুন্যসহিষ্ণুতার নীতির বাস্তবায়নে আরএমপি নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদক উদ্ধার-সহ যে-কোনো অপরাধ সনাক্তকরণে আরএমপি’র রয়েছে দ্যৃমান সাফল্য। অপরাধ প্রতিরোধে গত ৫ বছরের ছিনতাইকারী, চোর, ডাকাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের নিবিড়ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং-এর মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে জনগণ ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বিভিন্ন রকমের জনসচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করছে আরএমপি। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও জামিনে থাকা জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আমরা আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় হাজিরার ব্যবস্থা করেছি, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মীর রেজাউল আলম, বিপিএম (বার), প্রিন্সিপ্যাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহী, প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল খালেক সাবেক উপাচার্য, মোঃ আব্দুল বাতেন, বিপিএম, পিপিএম, ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ, প্রফেসর ড. মোঃ হুমায়ুন কবির, উপ-উপাচার্য, রাবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল-সহ আরএমপি, রাজশাহী রেঞ্জ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, কমিউনিট পুলিশিং-এর সদস্য।