শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

News Headline :
পাবনায় মন্তাজ সরদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার বিতরণ রাজশাহী বারে ২১ পদের মধ্যে ২০টিতে জাতীয়তাবাদী প্যানেলের সাফল্য তানোরে গোয়ালঘরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৬ গরু র‍্যাব ১২’র অভিযানে ১টি বিদেশী বার্মিজগান সহ ২জন আসামী গ্রেফতার পাবনায় গ্রিন প্লাস ইউনানী ল্যাবরেটরিজে ভোক্তা অধিকার ও ওএনএসআই’র অভিযান: ২০ হাজার টাকা জরিমানা ভাঙ্গুড়ায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া পারমাণবিক ছয়টি ওয়ার হেড নিয়ে চিন্তিত পাবনা র‍্যাব-১২ এর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেফতার ১ জন পাবনা জেলা তাঁতী দলের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গলাচিপা পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় ইখতিয়ার রহমান কবির

মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে দিনাজপুর ১৭ মাসে রংপুর বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪৩০ জন

Reading Time: 3 minutes

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর:
রংপুর বিভাগ জুড়ে অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা। গত ১৭ মাসে এই বিভাগের সড়ক-মহাসড়কে প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৩০জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিকের বেশী। এনিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সচেতন মহল। তারা বেপরোয়া গাড়ি চালানো রোধসহ দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি করেন। এজন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা জানা গেছে, গত ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত রংপুর বিভাগের আট জেলার সড়ক-মহাসড়কে সাড়ে তিনশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪৩০ জন। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক। এর মধ্যে বাস দুর্ঘটনায় ১৬০, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৩ ও ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হয়। এই সময়ে ৬০ হাজার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি নিহত হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। তার পরেই রংপুর জেলার অবস্থান রয়েছে।
এব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সদ্য বদলীকৃত দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, গত দেড় বছরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪৫টি।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে রংপুর জেলায় ৬২ জন নিহত হয়, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ২২ জন। দিনাজপুরে ৬৯ জন নিহত, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ৩০ জন। গাইবান্ধায় নিহত ৪০ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ১২ জন। নীলফামারীতে ২১ জন নিহত, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ছয়জন। লালমনিরহাটে নিহত ২২ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে পাঁচজন। কুড়িগ্রামে নিহত ১৫ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে তিনজন। ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ২৫ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ১২ জন। পঞ্চগড়ে নিহত ২০ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ১১ জন।
আর ২০২২ সালের মে পর্যন্ত রংপুর জেলায় ৩০ জন নিহত, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ৯ জন। দিনাজপুরে নিহত ৭৫ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ১৫ জন। গাইবান্ধায় নিহত ১৫ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ছয়জন। নীলফামারীতে নিহত ছয়জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে দুজন। লালমনিরহাটে নিহত পাঁচজন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে দুজন। কুড়িগ্রামে নিহত তিনজন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে একজন। ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত ১০ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে চারজন। পঞ্চগড়ে নিহত ১২ জন, এর মধ্যে মোটরসাইকেলে তিনজন।
রংপুর সদরের পাগলাপীর শলেয়াহ বাজার এলাকার রেয়াজুল হক মাজেদী জানান, বেপরোয়া গাড়ির কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অনেকেই প্রাণ হারান। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেন। বিগত কয়েক বছর আগে তার বাবাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ী চালকসহ জনগণকে সচেতন হতে হবে তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।
মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম ও শঠিবাড়ি এলাকার মাহমুদুল ইসলাম জানান, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে যে হারে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। তারা ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের ব্যর্থতাকেও দায়ি করেন।
নগরীর সাতমাথা এলাকার বাস চালক আবুল হোসেন জানান, ওভার টেকিং থামাতে হবে। সেই সাথে মহাসড়কের দুই ও তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলে কিছুটা হলেও সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলে তিনি মনে করেন। একই কথা জানান, মর্ডাণ এলাকার আলতাব হোসেন ও শরিফুল ইসলাম নামের দুই ট্রাক চালক। তারা বলেন, সড়কে যে দুর্ঘটনা গুলো ঘটছে তার বেশীর ভাগই অটো, সিএনজি, ভটভটির সাথে হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী হাসান মাহমুদ ও নয়ন আহম্দে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে কেউ মারা যাচ্ছে। কেউ বেঁচে ফিরছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা জামান চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আহত রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। দুর্ঘটনায় অনেকে পঙ্গু হচ্ছে। মানুষকে সচেতন হতে হবে।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের রংপুর জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস রাসেল জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেন। তিনি মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ী চালক ও পথচারী উভয়কে সচেতন হতে হবে। সেই সাথে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে এটি রোধ করা সম্ভব হবে।
রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়তই চালক-শ্রমিকদের সর্তকতা বার্তা দেয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। তবে তিনি গাড়ী চালকের পাশাপাশি সাধারণ জনসাধারণ একটু সচেতন এই দুর্ঘটনার হার কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com