রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
Reading Time: 2 minutes
আন্তজাতিক ডেস্ক:
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারছে না, কারণ তারা নিজেরাই পানিপথে পেতে রাখা সব নৌ-মাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং সেগুলো অপসারণের সক্ষমতাও সীমিত।
তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর সময় ইরান অত্যন্ত এলোমেলো পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। ফলে কোথায় কতগুলো মাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য রেকর্ড আছে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমনকি যেসব মাইনের অবস্থান নথিভুক্ত ছিল, সেগুলোর কিছু পানির স্রোতে ভেসে স্থান পরিবর্তন করে থাকতে পারে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান ছোট নৌযান ব্যবহার করে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে। এর সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি যুক্ত হওয়ায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ স্থল মাইনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এমনকি উন্নত সামরিক সক্ষমতা থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি সময়সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ। যুক্তরাষ্ট্রও মাইন অপসারণে বিশেষায়িত জাহাজের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে প্রণালির দ্রুত ও নিরাপদ উন্মুক্তকরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’র কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। মার্কিন পক্ষ মনে করছে, এই সীমাবদ্ধতা মূলত মাইন শনাক্ত ও অপসারণে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
পরিস্থিতির জটিলতা কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করলেও দেশটির বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান এখনো কার্যকর রয়েছে, যা মাইন স্থাপন বা জাহাজে বাধা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।