সোমবার, ১৫ Jul ২০২৪, ০৫:০২ অপরাহ্ন

News Headline :
রনি শেখের পাবনা জেলা ছাত্রদলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে অব্যহতি পাবনা ঈশ্বরদীতে বলৎকারে ব্যার্থ হয়ে শিশুকে গলাটিপে হত্যা আটক ১ পাবনা সদর উপজেলা পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শিবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন রাজশাহীতে কোরবানিযোগ্য পশু সাড়ে ৪ লাখের বেশি দাম চড়া হবে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারী পাবনার সুজানগরে আনারস প্রার্থীর ভোট না করায় মোটরসাইকেল সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর লুটপাট পাবনা গণপূর্ত অধিদপ্তর কয়েককোটি টাকার বিনিময়ে ২য় দরদাতা বালিশকান্ডের হোতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ র‌্যাব কুষ্টিয়া ক্যাম্প এর অভিযানে ১টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান উদ্ধার গাজীপুরে তিন উপজেলায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন

পাবনার ঈশ্বরদীতে ইউএনও কর্তৃক ১২ শতাংশ হারে কর্তন করে ৩১৩ কৃষককে ২১ কোটির চেক প্রদান

Reading Time: 3 minutes

তালুকদার রাসেল, পাবনা :

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আরএনপিপি) অধিগ্রহনকৃত জমিতে ফসল উৎপাদনকারী ক্ষতি পূরণের তালিকাভুক্ত ৭৭৫ কৃষকের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে ৩১৩ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৫৬৫ টাকা। আর এই টাকা নিতে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েসকে শতকরা ১২ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঘুষ দেওয়ার কথা কাউকে জানালেই ক্ষতি পূরণ না পাওয়া বাকি কৃষকদের টাকা প্রদান করা হবে না। এমন ভয়ভীতিও প্রদান করা হচ্ছে। এইসব অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের। তবে ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস ক্ষতিপূরণ পাওয়া কৃষকদের কিছু কৃষক প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন করেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ঘুষ গ্রহনের কথা অস্বীকার করে সংবাদকর্মীকে ইউএনও জানিয়েছেন, প্রত্যেক কৃষকের নিজ নামে খোলা ব্যাংক হিসেব নম্বরে চেক প্রদান করা হয়েছে। কৃষক টাকা উত্তোলনের পর কাকে টাকা দিয়েছে তা তিনি জানেন না। এদিকে একজন বা দুইজন ব্যক্তি এক সঙ্গে গ্রুপ ভিত্তিক ৪০-৭০ জন কৃষকের চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালী ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার এসপিও মোঃ সাইদুল ইসলাম সংবাদকর্মীকে জানান, চেকের শর্ত হলো, যে চেক আনবে সেই টাকা উত্তোলন করতে পারবে। কৃষকরা হয়তো কাউকে চেক দিয়েছে আর সে টাকা উত্তোলন করেছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতি পূরণের টাকা কৃষকদের মধ্যে কিভাবে বিতরণ করা হচ্ছে তা সবাই জানে। তাই কোন কিছুই বাধানো বা আটকানো হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ব্যাংকের এই কর্মকর্তা। ক্ষতি পূরণ পাওয়া কৃষকদের সুত্রে , খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২০১৭ সালে নতুন করে প্রায় ৯শ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। অধিগ্রহনকৃত অধিকাংশ জমিই পদ্মা নদীর জেগে উঠা বালু ও মাটির চর ও পদ্মানদীর শাখা (স্থানীয়দের নিকট কোল নামে পরিচিত)। এসব জমিতে বিভিন্ন কৃষক ফসল চাষ করতেন। অনেকেই পদ্মানদীর কোলে মাছ চাষ করতেন। কিন্তু প্রকল্পের জন্য জমির প্রয়োজন পড়ায় পদ্মা নদীর এসব জমি ও নদীর কোল গ্রহন করা হয়। এতে মাঠে চাষাবাদে জড়িত থাকা কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সরকার চাষীদের ফসলের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেয়। তখন মাঠে চাষ করা প্রকৃত কৃষকদের নামের তালিকা করার সময় তৎকালিন ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছোট ভাই লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাস কে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের মতো করে দলীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয় স্বজনদের কৃষক দেখিয়ে ৭৭৫ জন কৃষকের একটি তালিকা তৈরী করেন। এই কৃষকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৮ কোটি টাকা চাহিদা প্রদান করা হয়। এই চাহিদার তালিকায় আত্মীয় ও স্বজনদের নামে মোটা অঙ্কের টাকার ক্ষতি দেখানো হয়েছে। সরকার কৃষকদের সেই চাহিদা পূরণে ২৮ কোটি টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধিনে প্রদান করে। এরপর নানা কারণ দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে টালবাহানা করেন। বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত সবকিছু বিচার করে কৃষকদের টাকা প্রদানের জন্য ইউএনওকে নির্দেশ প্রদান করেন। এর মধ্যে ২০২০ সালে আগষ্ট মাসে ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস ঈশ্বরদীতে যোগদান করেন। আদালতের নির্দেশে কৃষকরা বারবার ইউএনও ইমরুল কায়েসের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও টাকা পাচ্ছিলেন না। অবশেষে কৃষক নেতাদের সঙ্গে প্রথম ১০ শতাংশ পরে ১২ শতাংশ চুক্তিতে সোনালী ব্যাংকে হিসেবের মাধ্যমে ৩১৩ জন কৃষককে টাকা প্রদান করেন। আর ১২ শতাংশ হারে টাকা ঘুষ প্রদানের শর্তেই কৃষকদের প্রত্যেকের হাতে চেক প্রদান না করে গ্রুপ করে তাদের প্রতিনিধির নিকট চেক প্রদান করেন। কৃষকদের সেই প্রতিনিধি এক সঙ্গে ২০-৩০ টি বা তার বেশি পরিমাণ চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। উত্তোলনকৃত টাকা থেকে শর্তমতে ইউএনও’কে টাকা পৌছে দিয়েছেন চেক গ্রহনকারী প্রতিনিধি। হাইকোর্টের আদেশে আপনারা (কৃষকরা) ফসলের ক্ষতি পূরণের টাকা পাচ্ছেন তা হলে কেনো ইউএনওকে শতকরা ১২ ভাগ হিসেবে ঘুষ প্রদান করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কৃষকদের তালিকায় নাকি ৭০ শতাংশ দলীয় নেতাকর্মী ও আত্মীয় স্বজনদের ভূয়া কৃষক দেখানো হয়েছে। তাদের নামেই মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই জন্য বিভিন্ন দপ্তরে টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে পরবর্তিতে আর কাউকে টাকা দেওয়া হবে না। এমনকি ঘুষ প্রদানের কথা প্রকাশ করা হলেও নাকি বাকি কৃষকদের টাকা প্রদান করা হবে না। এমনভাবেই শাসিয়েই চেক প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন (এও) শাখা সুত্রে জানা যায়, সোনালি ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখায় কৃষকদের খোলা হিসেব নম্বরে চেক প্রদান করা হয়। ক্ষতি পূরণ তালিকায় মোট কৃষকের সংখ্যা ৭৭৫ জন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশে এখন পর্যন্ত ৩১৩ জনকে ২০ কোটি ৯০ লাখ ৫৬৫ টাকা প্রদান করা হয়েছে। যাচাই বাচাই করে ১১ জন কৃষককে ক্ষতি পূরণের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস কৃষকদের নিকট থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছিল কাজ করতে গেলে অনেক ধরণের কথা শোনায় যায়। কে কাকে টাকা দিয়েছে এটা আমার জানার কথা নয়। আমি কৃষকদের নামীয় ব্যাংক হিসেবে টাকা প্রদান করেছি। সেখান থেকে কৃষকরা টাকা তুলে কাকে দিচ্ছে বা আমার নামে কে টাকা তুলছে তা আমার জানা নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2024 DailySaraBangla24
Design & Developed BY Hostitbd.Com