মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
গানে কবিতায় মানুষের জাগরণ: পাবনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা Reading Time: < 1 minute
শামীম আহমেদ, পাবনা।
শিল্প, সাহিত্য, গান আর কবিতা নিছক বিনোদন ছাপিয়ে যখন মানবিকতার উচ্চারে পরিণত হয়, তখনই জন্ম নেয় এক নতুন জাগরণ। এমনই এক জাগরণের সুর বেজে উঠলো গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাবনার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে, যেখানে সাংস্কৃতিক সংগঠন‘আহ্বান’ আয়োজন করেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা— ‘গানে কবিতায় মানুষের জাগরণ’।
সুর, শব্দ আর গায়কীর সম্মিলিত সৃজনযাত্রায় মুগ্ধ হলেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা, কাটলো এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যা।সংস্কৃতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নীরবতা আর নিরপেক্ষতা অন্যায়ের প্রতি মৌন সম্মতিতে রূপান্তরিত হয়। সেই সময়ে শিল্পই হয়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রথম ভাষা, মানুষের আত্মমর্যাদা, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে এক অনিবার্য উচ্চারণ। ‘আহ্বান’ এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই এই ব্যতিক্রমী সন্ধ্যার আয়োজন করে।
সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. মো. জুবায়ের তানভীর বলেন, “আমরা চেয়েছি শিল্প হয়ে উঠুক মানুষের পক্ষে উচ্চারিত এক দৃঢ় প্রত্যয়। মুক্ত চিন্তায় যুক্ত হোক সবাই— এই আমাদের আহ্বান। সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সুসজ্জিত মঞ্চে যখন বাউল লোকসংগীতের চিরায়ত সুর আধুনিক গানের মূর্ছনার সাথে মিশে যাচ্ছিল, তখন এক কাব্যিক উপস্থাপনা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
শিল্পীরা তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে শুধু গান বা কবিতা আবৃত্তি করেননি, বরং প্রতিটি শব্দ ও সুরে বুনে দিয়েছেন মানবিকতার বার্তা, মুক্তচিন্তার আহ্বান।উপস্থিত দর্শকরা এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একজন দর্শক বলেন, “এমন একটি অনুষ্ঠান সত্যিই বিরল। গান আর কবিতার মাধ্যমে যে গভীর বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা মনকে নাড়া দিয়েছে। একটি চমৎকার সুখের আবহাওয়ায় সন্ধ্যাটি কেটেছে, যা মনে রাখার মতো।
”‘গানে কবিতায় মানুষের জাগরণ’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ছিল না, ছিল এক মানবিক উচ্চারণের উৎসব। এটি প্রমাণ করলো, শিল্প শুধু বিনোদন নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। সুরের পাশে, কবিতার পাশে, শিল্প-সংস্কৃতির পাশে এসে দাঁড়ানোর এই আহ্বান পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।