অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজাদুল ইসলাম, ঢেকরা গ্রামের হামিদুল ইসলাম, বারাতৈল গ্রামের আজিজুল ইসলাম, প্রধানকুন্ডি গ্রামের আজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন একটি হালচাষের ট্রাক নিয়ে পিতাম্বরপুর মৌজার কয়েকটি জমিতে প্রবেশ করে হালচাষ শুরু করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ববর্তী লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন লিজ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই যেন জমিতে আবাদ করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় প্রধানকুন্ডি গ্রামের জাহাঙ্গীর, রিক্তা বেওয়া, রিপা বেগম ও মেহেদী হাসান রাজার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে জোরপূর্বক হালচাষ করা হয়। খবর পেয়ে জমির লিজগ্রহীতা ও ভোগদখলকারীরা ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে অভিযুক্তরা হালচাষের ট্রাক রেখে সেখান থেকে চলে যান। ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি ভূমি অফিস থেকে বৈধভাবে লিজ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জমিগুলো ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল জমিগুলো দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান রাজা বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি। হঠাৎ করেই একটি পক্ষ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী বিধবা এক নারী রিক্তা বেওয়া বলেন,স্বামীর মৃত্যুর পর এই জমিটুকুই আমার একমাত্র সম্বল। ভূমি অফিস থেকে জমি লিজ নিয়ে আমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। এখন যদি জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়, তাহলে আমার পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বালুভরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন,
“যারা এতদিন জমি ভোগদখল করছিলেন, তাদের লিজের মেয়াদ গত বৈশাখ মাসে শেষ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকেও নতুন লিজের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে লিজ প্রদান না হওয়া সত্ত্বেও আগের লিজগ্রহীতারা জমিতে হালচাষ করে ধান রোপণ করছেন। তাই আমাদের কিছু লোক সেখানে গিয়ে কয়েকটি জমিতে হালচাষ করেছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।
এ বিষয়ে বালুভরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল ইমরান হোসেন বলেন,জমিগুলোর লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষই নতুন লিজের জন্য আবেদন করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করে নতুন লিজ প্রদান করবেন। তবে নতুন লিজ দেওয়ার আগেই আগের লিজগ্রহীতারা জমিতে ধান রোপণ করছেন। নতুন লিজ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের আবাদ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যেই কয়েকজন সেখানে গিয়েছিল বলে আমি জেনেছি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।