admin
- ২৩ মার্চ, ২০২৬ / ৪৯ Time View

পাবনার ঈশ্বরদীতে গত কয়েকদিনে হামলা পাল্টা হামলার পর বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অফিস ভাংচুর- মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঈশ্বরদী পাবনা :
পাবনার ঈশ্বরদীতে গত কয়েকদিনে হামলা পাল্টা হামলার পর বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অফিস ভাংচুর- মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার সহ অন্তত ২৫/৩০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় প্রতিপক্ষ জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা। এ সময় কার্যালয়ের সামনে থাকা ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এবং পোস্ট অফিস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। উভয় গ্রুপের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনায় ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। বর্তমানে শহরে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপ ও পিন্টু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, যুবদল নেতা নুরে আলম মোস্তফা শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামসহ হাবিব গ্রুপের অন্তত ২০-২৫ জন। অপরদিকে পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত নুরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে ঈদের চাঁদরাতে পিন্টু গ্রুপের কর্মী আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।
সোমবার সকালে পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। এর পাল্টা হিসেবে হাবিব গ্রুপও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে দুই পক্ষ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার আহত
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান, সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ পক্ষগুলোকে আলাদা পথে মিছিল করার অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা পোস্ট অফিস মোড়ে হাবিবের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করে এবং অন্তত দুটি মোটরসাইকেলে আগুনসহ ২০/২৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
এদিকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তাসনিম তামান্না স্বর্ণা জানান, ইট-পাথরের আঘাতে আহত অন্তত ১৮-২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সর্ট গান ও সাউন্ড গ্রেনেডের ১০ রাউন্ড গুলি করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন।
Post Views: 54