রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
পাবনার বেড়া পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে এক ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। Reading Time: 2 minutes
সরকার আরিফ ইখতেখার, বেড়া পাবনা :
পাবনার বেড়া পৌরসভায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গ্রামের শত শত মানুষের মধ্যে এক ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকা থেকে দুপুর ২:৫০ ঘটিকা পর্যন্ত বেড়া থানাধীন সম্ভুপুর ও হাতিগারা গ্রামের সীমানা সড়কের বেড়া ডাকবাংলো ঘাট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকবাংলো ঘাটে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে হাতিগারা গ্রামের মোঃ জাহান খা (৫০), মোঃ আলম হোসেন (৫৪) ও মোঃ সেলিম হোসেনের (২২) নেতৃত্বে ২৫০/৩০০ জন এবং প্রতিপক্ষ সম্ভুপুর গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৫), মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৫০) ও মোঃ নাসির উদ্দিন খাঁর (৫২) নেতৃত্বে আরও ২৫০/৩০০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ মেয়াদী এই সংঘাতের সময় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ কায়সার আলম মাসুদ (৫০) গুরুতর আহত হন। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনার খবর পেয়ে বেড়া মডেল থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ এবং র্যাবের (RAB) একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সাধ্যমত চেষ্টা করে। বেড়া মডেল থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উভয় গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।