শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
Reading Time: 2 minutes
মাসুদ রানা রাব্বানী,রাজশাহী:
রাজশাহীতে ভারী বর্ষণে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাতে বেড়েছে সবজির দাম। বুধবার (৪ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শেষ হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে। আর এতে বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলে বেড়েছে মাছ ও মুরগির। শনিবার নগরীসহ জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো কিছুই। দাম বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষের।সবজি বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে পণ্যের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। সরবরাহ কম থাকার কারণে আড়ৎদাররা দাম বাড়িয়েছেন। সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম। তবে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকাতে যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা। সরকার নির্ধারিত আলুর দাম ৩৬ টাকা। এই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৬৫ টাকা নির্ধারিত করেছিল সরকার।
এছাড়াও সব সবজি বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা। এই সপ্তাহে পটল ৫০-৫৫ টাকা কেজি, লাউ ৫০ থেকে টাকা, কচু ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০, করোলা ৫০, শশা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০, সজনে ৬০, ঝিঙে ৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি আদা ২৪০, রসুন দেশি ২৬০, ভারতীয় ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।রাজশাহী নগরীর সবচেয়ে বড় সবজির বাজার মাস্টারপাড়ার পাইকারি বিক্রেতা জনি মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে মোকাম থেকে আমরা পণ্য পায়নি। যে টুকু পেয়েছি তাও বাড়তি দামে নিতে হয়েছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়েছে। খুচরা সবজি ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে আড়তদাররা প্রতিটি সবজির দাম বাড়িয়েছে। আমাদের বেশি দামে কিনে স্বল্প লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।এ সপ্তাহে বেেেড়েছ মাছের দাম। প্রতিকেজি পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, দেশি কই ৬৫০ টাকা, বড় তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০।এছাড়াও ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। বাগদা চিংড়ি ৯০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১২০০ টাকা, চিংড়ি মাঝারি ১৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা কেজি, প্রতিকেজি পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০০ টাকা।
এই সপ্তাহে প্রতিকেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকা কেজি দরে। দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকা কেজিতে। পাতিহাঁস বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকা কেজিতে। এই সপ্তাহে মুরগির লাল ডিম ৪৮ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার টাকা।রাজশাহী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় বর্তমানে ৫ হাজার ৪৪৯ হেক্টর জমিতে সবজি, ৪ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে মাসকালাই ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ১৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ রয়েছে। এরমধ্যে একদিনের বৃষ্টিপাতে জলমগ্ন হয়ে প্রায় ৩৬৯ দশমিক ৫২ হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে কৃষি দপ্তর।