বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন
রাধানগর পেক্ট্রোল পাম্প Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার পরেও পাবনার তেল পাম্প গুলোতে মিলছে না কাংখিত জ্বালানি তেল। শহর ও আশ পাশে প্রায় ১০টি তেল পাম্প থাকলেও মাঝে মধ্যে একটি বা দুটি তেল পাম্পে তেল দিতে দেখা যায়।
ফলে রাস্তা জুড়ে যাত্রীবাহী, মালবাহী, ব্যাক্তিগত পরিবহন ও মোটর সাইকেলের দিন-রাত লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বাদ যাচ্ছে না সরকারী-আধা সরকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবহন এমনকি জরুরী পরিসেবার এ্যাম্বুলেন্স বা আইনশৃংখলার কাজে নিয়োজিত পরিবহনও।
সময় মত তেল না পাওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা দুর পাল্লার যাত্রীবাহি পরিবহনগুলো সময়মত গন্তব্যে পৌছাতে পারছে না। এতে করে অপর প্রান্তের যাত্রীগুলো সময়মত টিকিট ক্রয় করলেও গাড়ি সময় মত না পৌছানোর কারনে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু করে। ১৫ মার্চ সরকার এক ঘোষনার মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেয়। পাম্পগুলোতে আগের মত স্বাভাবিকভাবে তেল পাওয়ার কথা। কিন্তু চিত্র উল্টো, রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার পরেও পাম্পগুলোতে মিলছে না কাংখিত জ্বালানি তেল।
এতে করে যে পাম্পগুলোতে তেল দেওয়া হয়, সেখানে যাত্রীবাহী বাস মালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবহনকে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অবস্থা এতই ভয়াবহ হয় যে, তেল পাম্পের উভয় পাশ্বে দীর্ঘ লাইনে ব্যাপক যানযটের সৃষ্টি হয়। এতে পাম্প থেকে তেল নিয়ে বের হতেও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।
তবে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয় যাত্রীবাহি বাসগুলোকে। তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে পাবনায় পৌছায়। এরপর জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। এমনও দেখা গেছে এক একটি যাত্রীবাহি বাসকে ১০/১২ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যাত্রীবাহি পরিবহনগুলো পাবনা থেকে ছেড়ে গন্তব্যেস্থলে না পৌছানো পর্যন্ত যাত্রীদের ওখানকার বাসকাউন্টারে অপেক্ষা করতে হয়। এতে করে অপরপান্তে টিকিট ক্রয় করা যাত্রীদের চরমভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তÍ থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রাকগুলো দিনের পর দিন পাবনায় অবস্থান করার কারনে তাদের অমানবিক কষ্ট করতে হচ্ছে।
এদিকে তেল পাম্পের ম্যানেজারদের দাবি তারা টাকা দিয়েও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল পাচ্ছে না। যে তেল দেওয়া হয় তা ২/৩ ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এতে করে লাইনে থাকা গাড়িগুলোকে পুনরায় তেলের জন্য অপেক্ষ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশান এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব আবুল এহসান খান রেয়ন জানান, পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় তেল পাম্পের সামনে গাড়িগুলোকে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, পাবনার পেট্রোল পাম্প গুলোকে ঈদের আগ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন নিবিঘ্ন রাখতে যাত্রীবাহি বাস গুলোকে তেল দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ তদারকি করছে বলে তিনি আরো জানান।
পাবনা তেল পাম্প মালিকদের দাবি রেশনিং পদ্ধতি উঠে গেলেও তারা ডিপো থেকে চাহিদামত জ্বালানি তেল সরবরাহ পাচ্ছেন না। সমস্যা সমাধানের জন্য ডিপো থেকে চাহিদামত তেল সরবরাহ করা হলে, পরিবহন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট জনবল ও যাত্রী সাধারণ ভোগান্তির হাত থেকে মুক্তি পাবে। তা না হলে যাত্রীসাধারণসহ পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলকে এবারে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হবে।