মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন

News Headline :
রূপান্তর পাবনার উদ্যোগে রামানন্দপুরে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত পাবনা ঈশ্বরদীতে ‘সুগন্ধি শুঁকিয়ে’ গৃহবধূর স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও দুই নারী পাবনা ঈশ্বরদীতে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত, বাসচালক পলাতক পাবনার মোল্লা কফিল ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের দোষর থেকে বিএনপি’র দালাল পাবনার আটঘরিয়া পৌরসভায় ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা রাজশাহীর মোহনপুরে আম নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ পাবনায় ভেজাল ম্যাজিক মশলা তৈরির কারখানায় অভিযান বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য জব্দ একজন আটক রাজশাহী নগরীতে পিতাকে হত্যার মামলার ছেলে রাকিব ঢাকায় গ্রেফতার পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভাঙ্গুড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসিল্যান্ড; বাতিলের ঘোষণা  বিক্রি হওয়া ঘরের বরাদ্দ পাবনায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিবাহ বিষয়ক র‌্যালি ও আলোচনা সভা

‘অমঙ্গলের’ মঙ্গলপুরে আবার বসতি হচ্ছে

Reading Time: 2 minutes

শেখ ইমন,ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ সরকারি নথিতে মঙ্গলপুর গ্রামটির নাম রয়েছে। আছে ফসলি জমি, পুকুর ও গাছগাছালি। কিন্তু সেখানে নেই মানুষের কোলাহল। জনশ্রুতি রয়েছে, ৬০-৭০ বছর আগে মঙ্গলপুর গ্রামে মানুষের মধ্যে ‘অমঙ্গল’ আতঙ্ক ভর করে। ভয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান বাসিন্দারা। সেই থেকে গ্রামটি মানুষশূন্য। সেই মঙ্গলপুর গ্রামে নতুন করে মানুষের বসতি শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সাতটি ভূমিহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে মঙ্গলপুর গ্রামের অবস্থান। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলপুর গ্রামটি ৬৬ নম্বর মঙ্গলপুর মৌজায় অবস্থিত। এই মৌজায় একটিই গ্রাম রয়েছে। গ্রামে ২০৬টি খতিয়ানভুক্ত জমি আছে। কিন্তু কোনো পরিবার নেই ।

প্রায় ৭০ বছর পর আবার মঙ্গলপুর গ্রামে মানুষের বসতি গড়ে উঠতে যাচ্ছে। ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পে গত মার্চে সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিমধ্যে ওই গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হবে। পাশের বাগডাঙ্গা, পাশপাতিলা ও বলাবাড়িয়া গ্রামের সাতটি ভূমিহীন পরিবারকে এই ঘর দেওয়া হবে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেরুন নেছা বলেন, মঙ্গলপুর গ্রামে সাতটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। এটা মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার। দীর্ঘদিন পর মঙ্গলপুর গ্রামে আবার মানুষের বসতি গড়ে উঠবে। কোটচাঁদপুরের প্রবীণ ব্যক্তি মোশারফ হোসেন বলেন, ৬০-৭০ বছর আগে মঙ্গলপুর গ্রামে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক মানুষ মারা যান। আতঙ্কে অন্যরা আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নেন। কিছু পরিবার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে ভারতে চলে যায়। এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম মঙ্গলপুর। কিন্তু এই গ্রামে কোনো মানুষ বাস করেন না। তাঁরা লোকমুখে শুনেছেন, অজানা আতঙ্কে মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যান। গ্রামটির কথা বর্তমান প্রজন্ম প্রায় ভুলেই গিয়েছিল।পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সবাই জানতে পারে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, সাতটি পরিবার ওই গ্রামে বসবাস শুরু করবে। আস্তে আস্তে গ্রামে আরও বসতি গড়ে উঠবে, এই প্রত্যাশা তাঁদের।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com