মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা:
পাবনায় হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। গত ২৪ ঘন্টায় পাবনা সদর হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
এরমধ্যে শিশু ১৪জন অন্যান্য বয়সী রোগীর সংখ্যা ৬জন । বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৩৬জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮জন রোগী ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে রোববার এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ২ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজণীয় সকল সামগ্রি ও ঔষধ তাদেরকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে কোন ঔষধ বা অন্যান্য সামগ্রি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
এরপরেও রোগীর চিকিৎসা সেবা নিয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালের বেড না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা প্রদান করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
একজন শিশু রোগীর স্বজন কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার শিশুর অবস্থা খারাপ। এখন ডাক্তার বলছে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি পাবনা সদর হাসপাতালে গত ১১ দিন যাবত চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ আজকে ডাক্তার বলছে রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য।
আগে জানালে তার শিশুকে তিনি বাইরে নিয়ে গিয়ে ভাল যায়গায় চিকিৎসা করাতে পারতেন। আজকে রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনার বাইরে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তারপরেও অক্সিজেন না থাকায় শিশু রোগীর অবস্থা চরম অবনতি হয়েছে।
হাসপতালে চিকিৎসারত রোগীর স্বজন জানায়, কয়েকদিন আগে এক শিশু বিনা চিকিৎসায় এখানে মারা গেছে। এদিকে শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্য ডাক্তার পরিমল বলেন, তার ওয়ার্ডে ৩৬জন শিশুর মধ্যে কোন গুরত্বর রোগী নেই। সবার অবস্থা স্বাভাবিক।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ রফিকুল হাসান বলেন, হাসপাতালে ২৫০ শয্যার বিপরীতে ৬০০-৬৫০জন রোগী ভর্তি থাকে। আমাদেরকে ২৫০ জন রোগীর বারাদ্ধ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত রোগীর ঔষধ দেয়া আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এজন্য আমরা অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ঔষধ কেনার জন্য বলে থাকি। তিনি এও জানান, গত জানুয়ারী থেকে হাম আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ২১৩জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৯জন রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বর্তমানে ৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি এও জানান, পাবনা সদর হাসপাতালে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি।