শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

News Headline :
১৮ জুলাই পাবনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলির ঘটনার কোন বিচার হবে না ? মতিহার থানার ধরমপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, দাফন সম্পন্ন পাবনায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের উপর হামলা পাবনায় কবি “বন্দে আলী মিয়ার সাহিত্য কর্মে সমকালীন সমাজ” গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সাথে বাসের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত আহত ১০ জন পাবনায় ২টি বিদেশি পিস্তল ম্যাগজিন ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার রাজশাহী মতিহার থানার ইন্সপেক্টর পরিচয়ে প্রতারণা, বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক (CRN) বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাবনার আটঘরিয়ায় মিয়াপাড়ার আব্দুস সালাম ৬বছর ধরে শিকলবন্দী রহস্য উদঘাটনের দাবি এলাকাবাসীর ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ গৃহবন্দি

১৮ জুলাই পাবনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলির ঘটনার কোন বিচার হবে না ?

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খবর আসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আব্দুল হামিদ রোডে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান গ্রহন করেছে। এ খবর শুনে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বাইপাশ সড়ক থেকে আবারও শহর অভিমুখে যাওয়ার ঘোষনা দেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম শহরে না যাওয়ার জন্য আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন এবং শহরমুখি মুজাহিদ ক্লাব রোড ৩ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলেন।

Reading Time: 4 minutes

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :

পাবনা ডিগ্রি কলেজ বটতলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের গুলি। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বাইপাস চত্বরে পুলিশের গুলি। জুলাই-আগষ্ট পাবনায় আন্দোলনের সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার দিন ১৮ জুলাই । সেদিন ছাত্রলীগ বা পুলিশের গুলিতে কেউ মারা না গেলেও রণক্ষেত্র ছিল স্মরণীয়। এত বড় ঘটনায় আজও মামলা হয়নি ছাত্রলীগ বা পুলিশের নামে। এ ঘটনায় আহত অনেকেই জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতিও মেলেনি। অথচ সেদিন পুলিশের টিয়ারসেল, রাবার বুলেট, শটগান, রাইফেলের গুলি ও হামলায় আহত হয়েছিল প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। গণগ্রেফতার করলেও পরে আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের চাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কয়েকজনকে বাদে সবাইকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ। আজ সেই আতংকিত ১৮ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের উপর ২০২৪ সালে এই দিনে পাবনায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ গুলি চালিয়ে ও পিটিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের আহত করেছিল। রণক্ষেত্র হয়েছিল পাবনা বাস টার্মিনাল বাইপাস এলাকা।
সেদিন কি ঘটেছিল পাবনায় ? উত্তরের জেলা রংপুরে আবু সাঈদ নিহতের পর সারা বংলাদেশের ন্যায় পাবনাতেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। ১৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের মেইন গেটের সামনে কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীরা সমাবেশ করতে থাকে। এ সময় পাবনা পলিটেনিক থেকে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মিছিলসহকারে এডওয়ার্ড কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগদিতে রওনা হয়। পথিমধ্যে ডিগ্রি বটতলায় মিছিলটি পৌছালে পুর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ আহমেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মিছিলে গুলি করে। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কলেজ গেটের সামনে থেকে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ডিগ্রি বটতলার দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে আবারও গুলি বর্ষণ করে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের গুলি উপেক্ষা করে ধাওয়া দিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদের কয়েকটি মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের কয়েকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে এবং পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এডওয়ার্ড কলেজ গেট অভিমুখে রওনা হয়। আন্দোলনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী কলেজ গেটে জড়ো হয়। পরে তারা একত্রিত হয়ে শহর অভিমুখে রওনা দেয়। শিক্ষার্থীরা শহরের মুল আব্দুল হামিদ সড়কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করার পরিকল্পনা করে। এদিকে আব্দুল হামিদ সড়কের মধ্যভাগে জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়। সেখানে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিল। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা হামিদ রোড হয়ে বানী সিনেমা হলের সামনে থেকে পুনরায় জেবি মোড় (বর্তমান শহীদ চত্বরে)ফিরে আসে। পরে জেবি মোড় বর্তমান শহীদ চত্বরের সামনে দিয়ে মিছিলটি মেরিল বাইপাশ মুল সড়কে মুনসুর আলী কলেজের সামনে অবস্থান গ্রহন করে। এরমধ্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিতে তারা ক্যাম্পাস থেকে মিছিলসহকারে রওনা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম

ও তাদের সঙ্গিয় ফোর্স বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুব উন্নয়নের সামনে আটকে দেয়। এদিকে মেরিল বাইপাশে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্র্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগমনের কথা শুনে তারাও মেরিল বাইপাশ থেকে মিছিলসহকারে পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরমধ্যে খবর আসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুব উন্নয়নের সামনে পুলিশ আটকে দিয়েছে। এ খবর শুনে মেরিল বাইপাশে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রত বাসটার্মিনালের দিকে অগ্রসর হয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে থাকে। পাবনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ খবর জানতে পেরে তারা পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙ্গে বাস টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। দুই দিক থেকে আগত আন্দোলনকারীরা মহেন্দ্রপুর রেল ক্রসিং এর ওপর একত্রিত হয়। সেখান থেকে সকল শিক্ষার্থীরা এক হয়ে বাসটার্মিনালের বাইপাশ মোড়ের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকে। সেখানে পাবনার হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪/৫ হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান গ্রহন করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খবর আসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আব্দুল হামিদ রোডে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান গ্রহন করেছে। এ খবর শুনে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বাইপাশ সড়ক থেকে আবারও শহর অভিমুখে যাওয়ার ঘোষনা দেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম শহরে না যাওয়ার জন্য আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন এবং শহরমুখি মুজাহিদ ক্লাব রোড ৩ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলেন। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা শহর অভিমুখে এগোতে থাকে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটি গ্রুপ শহর অভিমুখে রওনা দিলে আরেকটি গ্রুপকে পুলিশ আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলকারীদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতন্ডা জড়িয়ে পড়ে ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারিদের আরেকটি অংশ পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙ্গে শহরের অভিমুখে রওনা হলে পুলিশ লাঠিচার্য করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ প্রথমে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা একত্রিত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। সে সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, পুলিশ সুপার আব্দুল আহাদসহ পুলিশ কর্মকর্তারা বাইপাশ টার্মিনালের পাশে একটি মার্কেটে অবস্থান গ্রহন করে। বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা সেখানে পুলিশকে লক্ষ্য করে ম্লোগান দিতে থাকে ও ইটপাটখেল নিক্ষেপ করে। সেখানে পাবনার পুলিশ সুপার আব্দুল আহাদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য ও সাজোয়া যান আসার পর আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন শুরু করে।

পুলিশের গুলির মুখে টিকতে না পেরে শিক্ষার্থীরা দিক বিদিক ছুটো ছুটি করতে থাকে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পরবর্তিতে চেতনের মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে। ছাত্রদের লক্ষ্য করে পুলিশ আবারও গুলি করে। এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করে রাস্তার উপর বেধড়ক মারপিট করে।

পুলিশের হাতে আটক সকল শিক্ষার্থী পুলিশের মারপিটে আহত হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। রাতে কয়েকজনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘন্টাব্যাপী পুলিশের গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও হামলা আজও স্মরনীয় হয়ে আছে। ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতন না হলে এ ঘটনার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মীকে মামলার শিকার হয়ে হাজতবাস করতে হত। অথচ আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলেও ছাত্রলীগ বা পুলিশের বিরুদ্ধে আজও মামলা হয়নি। ২ বছর পেরিয়ে গেলে কেন মামলা হয়নি এর উত্তর আজো অজানা। তবে সেদিনের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী মনিরা খাতুন বলেন, ওইদিন অনেকেই আহত হয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকেই জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। শাওন হোসেন নামে আরেক ছাত্র নেতা বলেন আন্দোলনকারীদের উপর মুলত ১৮ জুলাই ছাত্রলীগ-পুলিশ গুলি করেছিল। তবে কি আঠারো জুলাইয়ের ছাত্রলীগ-পুলিশের গুলি বর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা রয়ে যাবে । বিচার পাবে না ক্ষতিগ্রস্থ আন্দোলনকারীরা। গুলি বর্ষণ, আহত ও গ্রেফতারের বিষয়ে সেই সময়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( পদোন্নিত প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মাসুদ আলম স্বীকার করলেও তিনি সংখ্যা জানাতে পারেননি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com