বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
কাশিয়ানীতে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে ঝরল ২ প্রাণ Reading Time: < 1 minute
লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ :
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবগাতী এলাকায় দোলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেটকারের রক্তক্ষয়ী এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কটিতে যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে আবারও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শিবগাতী এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দোলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী প্রাইভেটকারটির বিকট শব্দে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোলা পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন প্রাণ হারান। আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসগুলোর বেপরোয়া গতি ও নিয়মভাঙ্গা চলাচলের কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে দোলা পরিবহনের বাসগুলোর অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ওভারটেকিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হলেও দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে কার্যকরী ও টেকসই কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল চালকের ঘাড়ে দায় না চাপিয়ে গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্সের বৈধতা, নির্ধারিত গতিসীমা লংঘন এবং মহাসড়কের যান্ত্রিক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা জরুরি। আজকের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে গণপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকেই ফের উস্কে দিল। স্থানীয়দের দাবি, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করবে এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে অকালে স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদতে না হয়।