মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার মঞ্জুরিকৃত অর্থ সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বমোট ৮৩ জন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মাঝে এ অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৫টি পরিবারের অনুকূলে মোট ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (পরিবার প্রতি ৫ লাখ টাকা) এবং আহত ২৮ জনের চিকিৎসার্থে মোট ৪২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। নীতিমালার বিধান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি বা গুরুতর আহতদের ৩ লাখ টাকা এবং সামান্য আহতদের ১ লাখ টাকা করে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের (ঢাকা) পরিচালক (অপারেশন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মৎ মমতাজ বেগম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ, খুলনা বিভাগীয় বিআরটিএ-এর উপ-পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) তানভির আহমেদ, কুষ্টিয়া বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহবুব আলম। সভায় প্রধান অতিথি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও পথচারী উভয়েরই ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকারের এই আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা। তিনি আরো বলেন, আমানত পৌঁছায় দেয়াটা ইসলামিক দৃষ্টিতেও আমাদের একটা দায়িত্ব। সেই জিনিসটা আপনাদের কাছে পৌঁছায় দিতে আমরা আসছি।এটাকাটা অন্য কোনভাবে ব্যয় না করে, যাতে এখান থেকে একটা বেনিফিট আসে এবং পরিবারটা যেন চলতে পারে সেভাবে চেষ্টা করবেন। এখানে কোন ধরণের এই অনুদান দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরণের তদবির বা অন্যকিছু করার এখানে কোন সুযোগ নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন আমরা তাদেরকেই এটি দিচ্ছি, বা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে যারা আহত হয়েছেন আমরা তাদেরকেই দিচ্ছি। এখানে তদবির বা কোন ধরণের টাকা-পয়সা দিয়ে এই ব্যবস্থা করার কোন ধরণের কিন্তু সুযোগ নেই। এটা এখন অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আগে এক মাস থেকে দুইমাস ছিল, এখন এটা তিন মাসের মধ্যে আবেদন করা যাবে এবং সেটা অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম করা হয়েছে। এবং এটা আপনারা যারা এখানে আছেন তারা প্রচার করবেন। যদি এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তার ফ্যামিলি যেন অনলাইনে আবেদন করে আমাদের বিআরটিএ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে। আমাদের জন্য তাহলে সহজ হয়।