admin
- ১৭ আগস্ট, ২০২৬ / ১ Time View

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে রাতের আঁধারে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঈশ্বরদী পাবনা :
পাবনার ঈশ্বরদীর সাড়া ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে রাতের আঁধারে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে একটি বিশাল ‘বালুর খোলা’ গড়ে তুলেছেন এবং সেখানেই অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু মজুদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর খানের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে ‘পদ্মা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মঞ্জু খান বালুর খোলাটি তৈরি করেন। জমির মালিক আবু বক্কর খান নিশ্চিত করেছেন, তিনি নিজে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন; কেবল তিন বছরের জন্য মঞ্জু খানের কাছে জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই বালুর খোলায় মঞ্জু খানের সাথে প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের একঝাঁক নেতাকর্মী।
ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জু খান ৫-৬ জন অংশীদারের কথা স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। রাতের আঁধারে বালু কাটার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার কাকন নামের এক ব্যক্তির ইজারা নেয়া বালু মহাল (আলাইপুর) থেকে তারা বালু আনেন। রাতের বেলা বালু উত্তোলন যে আইনত নিষিদ্ধ—এ বিষয়ে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “আপনিতো জানেনই, ইজারা নেয়ার পরে কে নিয়ম মেনে বালু তুলে?”
তবে বাস্তব অনুসন্ধান বলছে ভিন্ন কথা; আলাইপুর নয়, বরং ঈশ্বরদীর সাড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মার তলদেশ থেকেই রাতের অন্ধকারে ড্রেজার বসিয়ে তোলা হচ্ছে এই বালু।
সাড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর রুকুন মোঃ ইলিয়াস খান উক্ত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, নিজে সরাসরি তা পরিচালনা করেন না। রাতের বেলা অবৈধ বালু তোলার বিষয়টি তোলা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে সন্ধ্যায় সামনাসামনি কথা বলার প্রস্তাব দেন।
পাশের বাঘা উপজেলার বৈধ বালু মহালের ইজারাদার মোঃ আরফান মিয়া রাতের বেলা বালু তোলার অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন:
“আমরা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে লক্ষীনগর মৌজা থেকে শুধুমাত্র দিনের বেলাতেই বালু উত্তোলন করি। রাতে আমরা কোনো বালু তুলি না। তবে শুনেছি লালপুর ও ঈশ্বরদীতে জলদস্যুরা রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু তুলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে রাতের বেলা পদ্মার তলদেশ ক্ষতবিক্ষত করে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। এর ফলে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভেড়ামারা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাড়া নদী রক্ষা বাঁধসহ, সাড়া ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেট।
অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জামায়াত সমর্থিত সাংবাদিকরা খবর লিখে তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ঈশ্বরদীর সাড়া ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকার নব্য বালু উত্তোলন কারিদের বিষয়ে তাদের কোন খবর লিখতে দেখা যাচ্ছে না।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন , রাতের অন্ধকারে বালু তুলছে এই তথ্য আমাদের কাছে ছিলো না,আপনার মাধ্যমে জানলাম। সত্য হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
Post Views: 2