রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

News Headline :
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেজাল দুধ কারখানায় অভিযান অর্থদন্ড ও কারাদন্ড বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন নয় পাবনার রূপপুরে শুরু হলো পাওয়ার স্টার্টআপ ‘স্টেজ-সি’ কার্যক্রম কড়া নিরাপত্তায়  পাবনার রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিয়ের দাবিতে হিন্দু প্রেমিকের বাড়িতে মুসলিম তরুণীর অবস্থান রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলার উদ্বোধন করলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: হানিফের মৃত্যুদণ্ড তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড পাবনায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে ২জন নিহত রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচন বাতিলের নির্দেশ

কোরবানির হাট কাঁপাবে কালু মামা

Reading Time: 2 minutes

শাহরিয়ার মিল্টন,শেরপুর :
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ষাঁড় গরু কালু মামার আকৃতি ও সৌন্দর্য নজর কেড়েছে সবার। গরুর মালিকের দাবি, এটিই শেরপুরের সবচেয়ে বড় গরু। কেউ কেনার আশায় দেখতে আসছেন,আবার কেউ শুধু এত বড় ষাঁড়টি সামনাসামনি দেখার জন্যই আসছেন।
২২ মণ ওজনের ষাঁড় গরু কালু মামার মালিক শেরপুর পৌরসভার কসবা কাঠগড় এলাকার বাহাদুর ইসলাম। তিনি পেশায় গাড়ী চালক। কালু মামার গায়ের রং কালো মিচমিচে, উচ্চতা ৫ ফুট আর লম্বায় ৯ ফুট। খামারি বাহাদুর জানান, করোনার সময় পাবনা ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার গরুগুলা অনেক বড় আকৃতির হয়। তাই সেখান থেকে একটি গরু কেনার খুব ইচ্ছে জাগে আমার। পরে আমার বন্ধুর মামা পাবনা থেকে ৮৫ হাজার টাকায় একটি হলস্টেইন জাতের ষাড় গরু কিনে দেন। সেখান থেকে গরুটি বাড়িতে নিয়ে আসতে সব মিলে খরচ হয় ১লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রায় ২ বছর ধরে গরুটি লালনপালন করতে গিয়ে মায়া জন্মেছে। প্রতিদিন এর পিছনে একজন লোকের খাটতে হয় । আর প্রতিদিন গরুটি ৬-৭শ টাকার খাবার খায়। গোসল দিতে হয় ২-৩ বেলা। আমার এখন পর্যন্ত তার পিছনে খরচই হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তাহলে কেনা খরচসহ পরলো ৫ লাখ টাকা। আমি এখন কালু মামাকে বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা চাচ্ছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে কেনার জন্য মানুষ আসছে দরদাম করছে। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হয়েছে। উপযুক্ত দাম পেলে বিক্রি করবো। বাহাদুর বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতির খাবার খাইয়ে লালন পালন করা হয়েছে ষাঁড়টি । ভুট্টা, জব, কাঁচা ঘাস, কালাইয়ের ভুষি, গমের ভুষি এবং ধানের খড় খাইয়ে বড় করেছি ষাঁড়টিকে। সাথে আরও বিভিন্ন রকমের ফল খাইয়েছি। এটি আমার আদরের গরু। তাই যখন যা হাতের কাছে পেয়েছি তাই খাইয়েছি। তার পছন্দের ফল আঙ্গুর । ষাড় গরুটি কালু মামা রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এই গরুটি আমার বন্ধুর মামা কিনে দিয়েছিলেনা\ পছন্দ করে। আর ষাড়টির রং হলো কালো। তাই দুই মিলে নাম রেখেছি কালু মামা। খামারি বাহাদুরের কাকা রহমত বলেন, গরুটি খুব শখ করে পেলেছে। গরুটির প্রতি সবারই মায়া জন্মে গেছে। একটি সন্তানকে যেভাবে লালন পালন করে কালু মামাকেও সেভাবে লালন পালন করছে। আমরাও গরুটিকে এসে দেখাশোনা করি । খুবই ভালো লাগে। সামনে কোরবানির ঈদে গরুটিকে বিক্রি করে দিতে হবে। বিক্রি হলে খুব কষ্ট হবে তবুও বিক্রি করে দিতে হবে।
বাহারি নামের বড় আকৃতির এই ষাঁড় নিয়ে উৎসাহী আশপাশের এলাকার মানুষ। শহর থেকে দেখতে আসা মো. জিহাদ বলেন, আমি কখনও এত বড় ষাঁড় দেখিনি। শহরের মধ্যেই এতবড় ষাঁড় রয়েছে তা ফেইসবুকে দেখে বাস্তবে দেখতে আসলাম। একটা সেলফিও নিলাম। সদরের চরশেরপুর থেকে আসা রফিক বলেন, সব সময় টিভিতে দেখি, বড় বড় গরু কোরবানির হাটে ওঠে। আজ বাস্তবে দেখলাম। গরু দেখতে আসা হুমায়ুন বলেন, আমার বাড়ি পাশের গ্রামেই। আমি আগে কখনও এত বড় গরু দেখিনি। তাই লোকজনের কাছে শুনে দেখতে আসছি। গরুটি দেখতে অনেক বড়। দেখতেও সুন্দর। নাম আর গরুর চেহারায় অনেক মিল আছে।
বড় ষাঁড় গরুর কথা শুনে দরদাম করতে আসছেন পাইকাররা। গরুর পাইকার হাসান বেলাল জানান, ষাঁড় গরুটি কেনার জন্য এসেছি। দরদাম করে যদি নিতে পারি তাহলে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করবো। শেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলায় অনেক খামারি এমন গরু কোরবানির জন্য তৈরি করেছেন। অনেকের বাড়ি থেকেই গরু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এবার গরুর যে বাজার রয়েছে এতে খামারিরা বেশ লাভবান হবেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, জেলায় এবার মোট ২০টি কোরবানীর হাট বসবে। পাশপাশি ৫টি অনলাইন প্লাটফর্ম থাকবে। প্রতিটা হাটে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি করে ভ্যাটেনারি টিম নিয়োজিত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com