শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
এদিকে নিহত হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং নিহত রিপন আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইজারাদার সহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ধর্মগ্রামের আরজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) ও তার সহযোগী ওমেদ আলীর ছেলর রিপন হোসেন (৫০)। তাদের বাড়ি আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। হাটের বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী তার সহযোগীদের নিয়ে হাটে তাদের অফিস রুমে বসেছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন লোক মুখোশ পরা অবস্থায় এসে তাদের উপর গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাম হাজী ও তার সহযোগী রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। তারই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপরগুলি বর্ষণ করেছে। দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পুলিশ সুপার আরো জানান, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জানাবো।

নিহত শ্রমিক দল নেতা রিপন ও হাটের ইজারাদার শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুস সালাম
এদিকে নিহত হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি এবং নিহত রিপন আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আব্দুল সালাম বিএনপি ও স্থানীয় জামায়াতের সাথে নিকোশিয়েশন করে হাটের ইজারা নিয়ে থাকেন।
নিহত আব্দুস সালাম ২০১১ সালের পুর্বে বিএনপি করতেন। তার ভাই আবুল কালাম ওরফে কালে কালাম পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। সালাম বিএনপি করার সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর নির্দেশে আতাইকুলা থানা পুলিশ একাধিকবার গ্রেফতার ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখালে, এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগে যোগ দেন। এরপর থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিকোশিয়েশনের মাধ্যমে এবারেও হাটের ইজারা নেন আব্দুস সালাম। সাথে স্থানীয় বিএনপি’র কয়েকজন নেতাকে হাটের অংশিদার হিসাবে নেন।