শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
পাবনায় শশুর বাড়ির ওয়ারিশের জমি দখলে নিল
এক সচিব থানায় অভিযোগের পরেও মামলা হয়নি Reading Time: 3 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনার ঈ দীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও প্রতারনার মাধ্যমে দাদা শশুড় বাড়ির ওয়ারিশদের জমি সামনে থেকে একক ভাবে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র সহকারী এক সচিবের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, অন্য ওয়ারিশদের অনুপুস্থিতে ঈশ্বরদী পৌরসভার সহযোগিতায় পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে শৈলপাড়ায় এ জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ করার পরেও এখন পর্যন্ত মামলা হিসাবে অর্šÍভক্ত করেনি থানা পুলিশ। সরোজমিন ঘুরে, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে ও স্থাণীয়দের সাথে কথা বলে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
ঈশ্বরদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শৈলপাড়ার বাসিন্দা মরহুম আব্দুল কাদের মল্লিক। মরহুম আব্দুল কাদের মল্লিকের স্ত্রী আবেদা খাতুন এখনও জীবিত। মরহুম আব্দুল কাদিরের ৪ ছেলে ৩ মেয়ে। পারিবারিকভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে আব্দুল কাদিরের ৩ মেয়েকে বাড়ির সম্পত্তির বিনিময়ে তাদেরকে বাইরের অন্য জমি দিয়ে বাড়ির অংশিদার মুক্ত করা হয়। মরহুম আব্দুল কাদেরের ৪ ছেলে যথাক্রমে মরহুম রেজাউর রহমান, ডা: আজাদুর রহমান মল্লিক, মো: আতাউর রহমান ও মোঃ আসাদুর রহমান। পৌর ১ নং ওয়াডের পাতিলাখালি মৌজার জেএল নং ৩৩ আরএস-২৫১৫, ২৫৩৯, ২৬২২, ২৬২৩ দাগের বাড়িটি ভোগ দখল করে আসছিল।
গত ০৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে জমির মালিক মরহুম আব্দুল কাদিরের ছেলে ওয়ারিশ আজাদুর রহমান মল্লিকের মেয়ে মোছা: পাপিয়া রহমান মল্লিক বাবার দানপত্র দলিল মুলে জমির মালিকানা লাভ করেন। পাপিয়া ঈশ্বরদী পৌরসভায় জমির বা আইলের সীমানা পরিমাপ বা নির্ধারণের জন্য অন্য ওয়ারিশদের অবগত বা অনুমতি না নিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। যেখানে চৌহদ্দি হিসাবে উত্তরে পাকা রাস্তা, পশ্চিমে রফিকুল ইসলাম, দক্ষিনে আব্দুস সামাদ/জামাল উদ্দিন পুর্বে মাজদার হোসেন উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ পৌর প্রশাসক সরকারী রাস্তা পরিমাপে বিষয় উল্ল্যেখ করে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একটি চিঠি চৌহদ্দী মালিকদের বরাবর ইস্যু করেন। বিষয়টি অন্য ওয়ারিশগণ জানতে পেরে জমির ওয়ারিশ মো: আতাউর রহমান ও মরহুম মালিক রেজাউর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান পৌর প্রশাসকের কাছে নির্ধারিত সময়ের পরবর্তিতে তিনি সময়ের আবেদন করেন। পৌর প্রশাসক সময়ের আবেদনকে গুরত্ব না দিয়ে নির্ধারিত ২৩ অক্টোবর জমি পরিমাপের দিন ধার্য্য বহাল রাখেন। ২৩ অক্টোবর জমির আইল বা সীমানা পরিমাপের নামে পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অন্য ওয়ারিশদের অনুপুস্থিতিতে ওয়ারিশদের সম্পর্ত্তি সামনের অংশ প্রতারনার মাধ্যমে কৌশলে সীমানা প্রাচীর দিয়ে দখল করে নিয়েছে পাপিয়া রহমান মল্লিক। তার এই অনৈতিক কাজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন, স্বামী জন প্রশাসন মন্ত্রানালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল বাশিরুল ইসলাম।
জমি জবর দখল, ভাংচুর, রক্ষিত মালামাল চুরির অভিযোগে মো: মতিউর রহমান বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাসেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কাউকে পায়নি। তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে, ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে গেলে সিনিয়র সহকারী সচিব আল বাশিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তার স্ত্রী মোছা: পাপিয়া রহমান মল্লিক বলেন, আমার বাবার ওয়ারিশ প্রাপ্ত সম্পত্তি আমাকে লিখে দিয়েছেন। এ জন্য আমি আমার জমির সীমানা প্রচীর দিয়ে ঘিরে নিয়েছি। ওয়ারিশের যৌথ সম্পত্তি অন্য ওয়ারিশের অনুপস্থিতিতে প্রচীর দেয়া আইন সম্মত কি না এবং বাড়ির মুল দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে পাপিয়া রহমান মল্লিক বলেন, অন্য ওয়ারিশদের ডাকা হয়েছিল তারা আসেন নাই। এছাড়া আমার সম্পত্তিতে প্রবেশের জন্য গেটের চাবি না থাকায় গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেছি। প্রশ্ন করে পাপিয়া মল্লিক বলেন, তালা ভেঙ্গেছি এটার বিষয় বস্তু নিয়ে কি নিউজ করবেন।
অন্য ওয়ারিশ না থাকায় আপনার সিমানা নির্ধারন আইননত বৈধ কিনা, জানতে চাইলে তিনি মোবাইলে একটি হাতের আকানো ম্যাপ দেখিয়ে বলেন এটাঁ সবার সম্মতিতে আমার সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
অভিযোগকারী মতিউর রহমান বলেন, মোছা: পাপিয়া রহমান মল্লিক এর স্বামী সিনিয়র সহকারী সচিব আল বাশিরুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে জোর পুর্বক আমাদের যৌথ ওয়ারিশের সম্পত্তি সামনের থেকে প্রাচীর দিয়ে দখল করেছে এবং সম্পত্তির মুল প্রাচীর ভেঙ্গে দরজা লাগিয়েছে। শুধু দখল করে ক্ষান্ত হননি, অনেক গুরত্বপুর্ন এবং দামি জিনিসপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে আমাদের প্রায় ১১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অন্য ওয়ারিশদের অবর্তমানে জমি পরিমাপ বা পৌর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে বা সহায়তায় সিনিয়র সহকারী সচিব আল বাশিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখল বা প্রাচীর দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে, পৌর প্রশাসক ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে বা ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলেতে রাজি হননি।
ঈশ্বরদী পৌরসভার সার্ভেয়ার দেলোয়ার হোসেন জানান, পৌরসভার রাস্তা পরিমাপের জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হলে, আমি সেখানে গিয়ে রাস্তা পরিমাপ করে চলে আসি। জমি দখল বা প্রাচীরের বিষয়টি আমার জানা নেই। সকল ওয়ারিশদের দাবি আদালতে জমি বন্টননামা বা স্থানীয়ভাবে বন্টনের মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ধারণ করার পর প্রাচীর দেওয়া উচিত। নিজের ইচ্ছামত সীমানা নির্ধারণ করে প্রচীর দিয়ে জমি দখল আইন সম্মত না। এতে করে শরীকদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হবে এবং অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। জোর পুর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে সীমানা প্রচীর দিয়ে পাপিয়া রহমান মল্লিক ও তার স্বামী সিনিয়র সহকারী সচিব আল বাশিরুল ইসলাম যে অন্যায় করেছেন তার বিচার সেই সাথে বাড়িঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থরা।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সচিব ও তার স্ত্রীর রোষানলে পড়েছেন নাগরিক টিভির পাবনা প্রতিনিধি মো: আলাল উদ্দিন। সচিবের স্ত্রী পাপিয়া রহমান মল্লিক সাংবাদিকসহ তার চাচাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।