বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

News Headline :
ছাগলকাণ্ডের মতিউরকেও ছাড়িয়ে গেলেন এনবিআরের সহিদুল: ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাট সম্পদ ৪০০ কোটির! রাজশাহী নগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন হামলা নারীসহ আহত ৪ রাজধানীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় বোন রাইসা আক্তারের ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পাবনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পাবনার বেড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশী অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস অনুষ্ঠিত পাবনার চাটমোহরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিক পালিত পাবনার ঈশ্বরদীর লোকোশেড মাদকের আড্ডা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে কুষ্টিয়ায় ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৩২

শীতের প্রকোপে চিন্তার ভাঁজ কৃষকের কপালে

Reading Time: 2 minutes

পাভেল মিয়া, কুড়িগ্রাম :
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের জেঁকে বসেছে শীত। রাতে বৃষ্টির মতই ঝরছে কুয়াশা। দিনেও দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। পৌষের শেষে এসে শীতের এমন তীব্রতায় কাবু মানুষ সহ গবাদি পশুরাও। এছাড়া বীজতলার ধানের চারা ও খেতের অন্যান্য ফসল নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ঘোগারকুটি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এবারে তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। শীতের তীব্রতায় তার সরিষা খেতে দানা ভালো হয়নি। আশানুরূপ ফলন পাবেন না। এছাড়া বোরোধান চাষাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, বোরোর বীজতলার অবস্থা তো একেবারেই ভালো না। ধান গাছের চারা সব সাদা হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বীজতলায় ধানের চারা থাকবে কিনা শঙ্কিত আছি। একই গ্রামের ছকিয়ত আলী বলেন, ঠান্ডার কারণে ধানের চারা সাদা হয়ে গেছে। ঔষধ দিচ্ছি কিন্তু কাজ তো হচ্ছে না। এত ঠান্ডা আর শীতের তীব্রতা আগে দেখিনি।উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানিমাছকুটি গ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, তিনি এবারে দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এতদিন আলু খেতের অবস্থা ভালোই ছিল। শীতের তীব্রতা বাড়ায় আলু খেতে পচন ধরেছে। আলু চাষাবাদ করে এখন লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। একই ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক বাদশা সরকার বলেন, আমি গত কয়েক বছর ধরে ফুলকপি আবাদ করি। অন্যান্য বছর খুব কম খরচে ফুলকপির আবাদ হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। ফসল বাঁচাতে প্রতিদিনই ঔষধ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় এত খরচ করে আবাদ করে লাভ হবে কিনা চিন্তায় আছি। ভুট্টা চাষী ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা পাইনি। কনকনে ঠান্ডায় আমার ভুট্টা খেতে নানান রোগ দেখা দিয়েছে। ঔষধ প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। আবহাওয়া এমন থাকলে খেতের অবস্থা যে কি হবে তা উপরওয়ালা ভালো জানেন। আলমগীর হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, আমি প্রতিবছর বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করি। এবারে চাষাবাদ করতে গিয়ে আমি লোকসানের শঙ্কায় আছি। আমার মরিচ খেতে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। শিম খেতের অধিকাংশ শিমগাছ মরে গেছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি খেতের অবস্থাও ভালো না। এবারে আবাদ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় ৮২৫ হেক্টর আমনের বীজতলা, ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৯ শ’ হেক্টর জমিতে আলু, ১ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শাক সবজির আবাদ রয়েছে। শীতের তীব্রতা থেকে ফসল রক্ষার জন্য কৃষকদের ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বীজতলার বাড়তি পরিচর্যা নিতেও কৃষকদের বলা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com