admin
- ৩ জুন, ২০২৬ / ২ Time View

কিশোরগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় মিলছে না কৃষকদের পরিচয়
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে।
Reading Time: 2 minutes
নাজমুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী :
কিশোরগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, তালিকায় মিলছে না কৃষকদের পরিচয়
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ প্রচারণা ছাড়াই ধান ক্রয়ের আবেদন গ্রহণ, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ভুয়া আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্তি এবং লটারির তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এতে সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে উপজেলার ৪০০ জন কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ। বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারি ক্রয়মূল্য প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ১৪ টাকা বেশি হওয়ায় এ সুযোগকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, ১১ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ দিন অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়নি। ফলে উপজেলার ৫৩ হাজার ৮৬৬ জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন আবেদন করতে সক্ষম হন। কৃষকদের দাবি, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো কার্যকর প্রচার না থাকায় অধিকাংশ কৃষক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেননি।
সদর ইউনিয়নের কৃষক নজমুল হোসেন, গদা গ্রামের ফিলিপ মিয়া, নিতাই ইউনিয়নের আবু সায়েম, বাহাগিলীর দুলাল মিয়া ও রণচণ্ডী ইউনিয়নের বাছার আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, তারা সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের কোনো প্রচারণা দেখেননি বা শোনেননি। অথচ বাজারে যেখানে ধানের দাম ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি, সেখানে সরকার ৩৬ টাকা দরে ধান কিনছে।
বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষক ফজলার রহমান বলেন, “সরকারি ধান সংগ্রহের বিষয়ে কোনো হ্যান্ডবিল, লিফলেট বা মাইকিং আমার নজরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়নি।”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু কৃষকের নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। তালিকাভুক্ত কয়েকজনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভকারী ব্যক্তিরা জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কৃষক নন এবং সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য কোনো আবেদনও করেননি। এতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসেন জানান, বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান বলেন, “ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের প্রচারণার জন্য মাইকিং করা হয়েছে এবং লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত কৃষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অন্যথায় প্রতিবছরের মতো এবারও মধ্যস্বত্বভোগী চক্রই লাভবান হবে, আর বঞ্চিত হবেন প্রকৃত কৃষকরা।
Post Views: 3