সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী:
শান্তির নগরী রাজশাহীতে রাত হলেই আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই। বিশেষ করে নগরীর অলি-গলির রাস্তাগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিচ্ছে। তবে এই এক মাসে উল্লেখযোগ্য কোনো ছিনতাইকারী ও চোরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হাতে গোনা কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে জামিনে মুক্তি পাচ্ছে তারা-এমনটিও দাবি করেছে মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।
পাড়া মহল্লার বাসা বাড়িতে ও মোড়ের দোকান গুলোতে তালা ভেঙ্গে, টিন কেটে, জানালার থাইয়ের লক ভেঙ্গে বিভিন্ন কায়দায় চুরি যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতী নগরীর মতিহার থানার কাজলা অক্ট্রয় মোড়ের একাধিক বাড়ি ও দোকানে এসব চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য সাপ্তাহিক বাংলার বিবেক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামানের বাড়িতে (অক্ট্রয় মোড় ১৫২ হাজেরা কটেজ) ১২ দিনের ব্যবধানে দুই’টি দামি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি করেছে চোরেরা। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। এর আগে দামিদামি জুতা স্যান্ডেল হাড়ি পাতিল মোবাইল ফোন ক্যামেরা চুরি হয়েছে। তবে চুরি হওয়া মালামালের একটিও উদ্ধার হয়নি।
এছাড়া নগরীরতে ছিনতাইকাজে এক মাসে অন্তত ২০টি স্থানে দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছে ছিনতাইকারীরা । ছিনতাইয়ের পর কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। নগরীর একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত এক মাসে অন্তত ২০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী নগরীতে। এসব ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত হয়েছে দামি মোটরসাইকেল। কোনো কোনো মোটরসাইকেলে দু’জন আবার কোনো মোটরসাইকেলে তিনজন মিলে একসঙ্গে ছিনতাইয়ে নামছে একাধিক চক্র। অব্যাহত ছিনতাইয়ে সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রæয়ারী সকাল ১১টায় জিবন (২৭) নামের এক যুবক বিনোদপুরে মোবাইল সার্ভিসিং করে কাজলা ফুলতলা তার মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। পথিমধ্যে ফুলতলার নিচে কাজলা ফজলুর বাগানে পৌঁছা মাত্রই ৪/৫জন ছিনতাইকারী তার পথ রোধ করে। এ সময় তার কাছে থাকা একটি বাটুম মোবাইল ও চারটি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ব্যপারে শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় মোঃ জীবন আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তালাইমারী, কাজলা, অক্ট্রয় মোড়, মেহেরেচন্ডি, বিনোদপুর, রাবি-সহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক যুবক চুরি ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যাদের অধিকাংশই মাদকসেবী, বেকার ও জুয়াড়ী। সাপ্তাহিক বাংলার বিবেক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, হঠাৎ ব্যাপক হারে চুরি ছিনতাই আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে মানুষের স্বাভাবিক জিবনযাত্রা ব্যহত হবে। বাড়বে আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে নগরবাসী। কাজেই দ্রæত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান ছাড়া এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হফিজুর রহমান জানান, চুরি ছিনতাইরোধে পাড়া মহল্লায় ও রাস্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই এসকল অপরাধীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, জিবন নামের এক যুবকের মোবাইল ছিনতাইয়ের ব্যপারে থানায় অভিযোগ হয়েছে। এসআই মোস্তফাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।