শুক্রবার, ৩১ Jul ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
স্থানীয় একজন ঠিকাদার প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করে চাঁদাবাজি, সরকারি দফতরে অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ ও অডিও ভাইরালসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিযোগকারী এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ শুরু করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত শুরুর পর খালেদ হোসেন পরাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বপদে বহাল রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এবং পাবনার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা বিরাজ করছে যে, তিনি পদে বহাল থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। একইসঙ্গে পরাগের ঘনিষ্ঠজন সরকারের ক্ষমতাশালী মহল থেকেও তদন্তকে প্রভাবিত করার সুযোগ রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। এমতাবস্থায় খালেদ হোসেন পরাগকে ছুটিতে পাঠানো অথবা পদচ্যুত করা হলে তদন্ত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে বলে পাবনার সাধারণ মানুষ মনে করেন।
গণমাধ্যমে খালেদ হোসেন পরাগের ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্লাকমেইল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাবনায় তার বিভিন্ন সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হলে তদন্তকারী সংস্থা পরাগের বিরুদ্ধে আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
এদিকে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি, মামলা দেওয়ার হুমকি এবং ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার মতো ভয়ংকর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো পর্যন্ত তিনি এসব হুমকি অব্যাহত রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
এর আগে পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নেতা-কর্মীদের হয়রানি এবং হুমকি-ধমকির একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পাবনা সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা মিরাজের সঙ্গে তার ফোনালাপ ভাইরাল হয়। ওই ফোনালাপে পরাগ আটঘরিয়ার জাসাস নেতা ও তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত এফএম আবুজর ওরফে ফয়সালকে টাকা দেওয়ার জন্য মিরাজের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। পাঁচ লাখ টাকার টেন্ডারে প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে মিরাজ অভিযোগ করেন। আপোষকৃত টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বারবার চাপ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি শহিদুল ইসলাম লালু, সাবির হাসান বাচ্চু ও শামিনুর আলম বুলুর মতো ত্যাগী ও আওয়ামী বিরোধী নেতাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শালগাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নেতাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে প্রকাশ্য হয়রানি ও হুমকির অভিযোগও রয়েছে। তার কথায় না চলার কারণে যুবদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করানো এবং অন্যদের বহিষ্কারের ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় একজন ঠিকাদার প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করে চাঁদাবাজি, সরকারি দফতরে অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
পাবনার চায়ের দোকান থেকে অলিগলি পর্যন্ত এখন জোর গুঞ্জন যারা চাঁদা দেন না, তাদের বিরুদ্ধেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়। বিশিষ্ট এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তার অবিরত বিষোদগারও একই কৌশলের অংশ বলে অনেকে মনে করছেন।
তদন্ত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ রাখতে খালেদ হোসেন পরাগকে তার পদ থেকে সরিয়ে রাখা এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি এখন পাবনার মানুষের মুখে মুখে। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত কতটা স্বাধীনভাবে এগোয় এবং নতুন অভিযোগগুলো কীভাবে যাচাই করা হয় তা এখন পাবনাবাসী দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।