সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। Reading Time: 2 minutes
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো রাজনৈতিক পর্যায় থেকে পুলিশের নিয়োগ, বদলি কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে রাজশাহীর বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করায় বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে।
তিনি জানান, পুলিশে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পদক, সনদ ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি এসব অর্জন পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিবেচনায় আনা হবে।
পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় সাইবার ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ডার্ক ওয়েবভিত্তিক অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে কেস ডকেট পুলিশের হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সরকার পরিবর্তনের পরও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকে এবং বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইনের সংজ্ঞা ও বয়সসীমা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এছাড়া ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে নারী সদস্যদের জন্য বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে গাইনোকোলজি ইউনিট স্থাপন এবং আবাসন সংকট নিরসনে ১০০টির বেশি মডেল থানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জনবল সংকট দূর করতে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব নিয়োগ সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে ৮ ঘণ্টার শিফটভিত্তিক ডিউটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেন ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর। অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।