সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
“পাবনায় বিএনপির রাজনীতিতে লালু, ভুলু ও বাচ্চুর প্রয়োজন আছে কি?” ”পাবনায় বিএনপি’র কারা কারা নদী থেকে বালু তুলছে আমি কিন্তু তাদের নাম জানি” ”পাবনায় জমি রেজি: অফিস থেকে বিএনপি’র কারা চাঁদা আদায় করছে আমি কিন্তু তাদের চিনি” এরকম উদ্ভট ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে থাকেন। পরাগের সাথে আপোষ করলে কারো নাম প্রকাশ করা হয় না। Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনা জেলা জাসাসের আহবায়ক ও ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যাবহার ও বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে হুমকি ও অসাদাচরনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার(৩১ আগষ্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জেলা জাসাসের আহবায়ক ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলীয় নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সরকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। এতে করে পাবনায় বিএনপি সেই সাথে বর্তমান সরকারের ভাবমুতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি দলীয় ও সরকার প্রধান তারেক রহমানের কাছে পরাগের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, আমাদের সাথে পাবনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ^াস আছেন। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের এই অভিযোগ প্রেরন করে সুষ্ঠ সমাধানের পথ খুজে বের করবো। এ ছাড়া জেলা বিএনপি;র আহবায়ক ও সদস্য সচিব জরুরী কাজে বাইরে থাকায় তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেন নি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সাক্ষর করেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, যুগ্ন আহবায়ক আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সাবেক জেলা বিএনপি’র সাংগাঠনিক সম্পাদক মাহমুদুুননবী স্বপন, সাবেক সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এবিএম মুসা, সাধারন সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও সকল অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য খালেদ হোসেন পরাগ ইতিপুর্বে এটিএন বাংলার পাবনা জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক খবরপত্রের নিজস্ব সংবাদদাতা মোবারক বিশ^াসকে গ্রেফতার করিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে ডিম থেরাপির হুমকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়া সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজের কাছে চাঁদাদাবির অডিও ভাইরাল, রিপন নামের এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদাদাবি করে, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রেফতার করিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে ডিম থেরাপি দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। চাকুরী দেওয়ার নাম করে টাকা গ্রহন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি, যুবদলসহ অনেক নেতাকে কুটুক্তি করে পোষ্ট, সরকারী অফিস আদালতের প্রধানদের ফোন করে হুমকিসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
“পাবনায় বিএনপির রাজনীতিতে লালু, ভুলু ও বাচ্চুর প্রয়োজন আছে কি?” ”পাবনায় বিএনপি’র কারা কারা নদী থেকে বালু তুলছে আমি কিন্তু তাদের নাম জানি” ”পাবনায় জমি রেজি: অফিস থেকে বিএনপি’র কারা চাঁদা আদায় করছে আমি কিন্তু তাদের চিনি” এরকম উদ্ভট ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে থাকেন। পরাগের সাথে আপোষ করলে কারো নাম প্রকাশ করা হয় না।

প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ফটোগ্রাফারের চুকুরী করার কারনে বিএনপি ও তার সকল অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পরাগের কারনে তটস্থ থাকেন। এর আগেও শালগাড়িয়া এলাকার একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় পরাগ প্রকাশ্যে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন, মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছেন এবং হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। পরাগ বিএনপির রাজনীতিতে বা পাটির মধ্যে ব্রাহ্মণ সেজেছেন। অন্যরা যত ত্যাগ-তিতিক্ষাই থাকুক না কেন, তিনি তাদের মূল্যায়ন তো দূরে থাক, গণনার মধ্যেই ধরেন না। পরাগের কথাই যেন শেষ কথা। পরাগের কথায়ই পাবনায় বিএনপির সবকিছু হতে হবে। পরাগের কথায় না চলার কারণে তিনি ফেসবুকে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।