মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

News Headline :
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সীমানাপ্রাচীর পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাসিক প্রশাসকের কাছে রুয়েট শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পাবনায় প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলন পাবনায় ১০ গ্রাম হেরোইনসহ একজন গ্রেফতার খাটুনির মজুরি’ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাবনায় ১২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার রাজশাহীতে ভাতিজার হাসুয়ার কোপে চাচা নিহত পাবনায় মৃত ব্যাক্তির নামে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ পুনঃ তদন্তের দাবি বদলগাছীতে প্রশাসনের আয়োজনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নৌকা বাইসকে কেন্দ্র করে হামলা ১৫ জন আহত ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কার্ভাড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপশাখা কমিটি ঘোষনা

পাবনায় ইউনানী কারখানায় তৈরি হয় যৌন উত্তেজক সিরাপ

পাবনায় ইউনানী কারখানায় তৈরি হয় যৌন উত্তেজক সিরাপ

Reading Time: 2 minutes

তালুকদার রাসেল, পাবনা :
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই ইউনানী কারখানায় তৈরি হয় যৌন উত্তেজক সিরাপ
পাবনার জালালপুরে রত্নদ্বীপ রিসোর্টের পশ্চিম পাশে জয় ল্যাবরেটরিজ নামক একটি ইউনানী কারখানায় দিনের পর দিন চলছে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরির কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাবনা শহরের কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব ওষুধ তৈরি করে আসছে। আর কারখানা মালিকের দাবী প্রশাসনের প্রায় সকল দপ্তরকে ম্যানেজ করেই চালু রেখেছেন কারখানাটি। স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম নামের একজন জানায়, জয় ল্যাবরেটরিজ নামক এই ফ্যাক্টরি শুরুর থেকেই অবৈধ পন্থায় যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করে আসছেন। মাঝখানে কিছুদিন আগে র‍্যাবের অভিযানে জরিমানাও গুনতে হয়েছে। তবে শুনেছি এখন এরা ওপর লেভেলের সকলকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছেন। শাহিন প্রামানিক নামের একজন বলেন, ‘এখানে যে সব যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়, তার কোনো অনুমোদন নেই৷ আমি একদিন কোম্পানির মধ্যে বেড়াতে গিয়ে দেখি সেখানে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ।’ মাসুদ রানা নামে একজন বলেন, ‘এখানে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়৷ আমি এই কোম্পানিতে চাকরি করতাম। আমি খেয়াল করেছি মাঝে মাঝে যখন সাংবাদিক আসতো তখন আমাদের বলা হতো গেট খোলা যাবে না। কোনো সাংবাদিককে গেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন সময় অভিযান হয় একারণে ভয়েই আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’ সোহেল রানা নামে একজন জানায়, এদের সিরাপগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ ৷ এরা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মালামাল পৌঁছে দেয় ৷ মাঝে মাঝে দেখি প্রশাসন আসে। তারা দেখেও যেনো না দেখার ভান করে। এদিকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পাবনার জালালপুর রত্নদ্বীপ রিসোর্টের পশ্চিম পার্শে জয় ল্যাবরেটরিজ ফ্যাক্টরিতে গেলে দেখা যায় শুধু যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি হচ্ছে তেমনটা নয়। অনুমোদন বিহীন আরো অনেক সিরাপ তৈরি হচ্ছে এই কারখানায়। শুধু তাই নয় কারখানাটি চালু থাকলেও ল্যাবরেটরিতে ঝুলছে তালা। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হরদম উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
এদিকে কিছুক্ষন পরেই সংবাদকর্মীদের সংবাদ পরিবেশন না করতে বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ আসতে থাকে। কারন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার মতো সাংবাদিককেও ম্যানেজ করার প্রক্রিয়া চালায় তারা। ম্যানেজ না হলে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয় কর্তৃপক্ষ।
এসব বিষয়ে জয় ল্যাবরেটরিজ ফ্যাক্টরির মালিক মি রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন সাংবাদিকদের উপরে৷ তার দাবি ফ্যাক্টরিতে সাংবাদিক প্রবেশের কোনো নিয়ম নেই৷ তার ফ্যাক্টরিতে তিনি যা খুশি তাই তৈরি করতে পারবেন, এতে কেউ কোন রকমের বাধা দিতে পারবে না। এছাড়া জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি প্রশাসন ম্যানেজ আছে তার কোনো সমস্যা নেই৷ পরে অবশ্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন কোম্পানি মালিক মো: রহিম ৷ এসব বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, এর আগেও আমরা মিস্টার রহিমের জয় ল্যাবরেটরিজে জরিমানা করেছি। এখন আমরা যদি আবারো এমন অভিযোগ পাই তাহলে আমাদের আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।

পাবনা জেলার ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক মো: রোকনুজ্জামান দায় সারা ভাবে বলেন, যদি অনুমোদন বিহীন কোনো সিরাপ জয় ল্যাবরেটরিজ কর্তৃপক্ষ তৈরি করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com