admin
- ২২ জুলাই, ২০২৬ / ১ Time View

পাবিপ্রবিতে র্যাগিংয়ের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন
Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীর ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে ৩ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো: আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান তুহিনকে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা শহরের বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে ডেকে নিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময়ের মানসিক চাপের একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযুক্তরা একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরের নাম জানা গেছে।
১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে সবাইকে একটি মেসে উপস্থিত হতে বলা হয়। সেখানে তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, উচ্চস্বরে গালাগাল এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। যদিও তারা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “হাসপাতালে গিয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীর দাবি, পাবিপ্রবিতে র্যাগিং নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে ক্যাম্পাসে র্যাগিং সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
তবে অতীতের ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন নয়, তদন্তে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় র্যাগিংয়ের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
Post Views: 2