সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

News Headline :
পাবনা জেলা জাসাসের আহবায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ বিশ্বের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ গড়ে তুলতে হবে: শিমুল বিশ্বাস শিক্ষক সমাজকে মাদক প্রতিরোধে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু বগুড়া শাজাহানপুরে সাড়ে ১৩কেজি গাঁজা সহ স্বামী ও স্ত্রী গ্রেফতার পাবনা র‌্যাবের অভিযানে ২শত৯৫ পিস ইয়াবাসহ ১ জন গ্রেফতার  রাজশাহীতে শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসায় সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর পাবনা  ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা, তিন চোর গ্রেফতার মোটরসাইকেল উদ্ধার বদলগাছীতে বিএনপি কর্মীকে মারধর, টাকা কেড়ে নিয়ে মোবাইল ভাঙার অভিযোগ শিশুদের হাতে অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন নয়: বিভাগীয় কমিশনার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন অনাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের

জমিজমা না থাকায় দীর্ঘদিন আগে সেচ খালের ধারে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস শুরু করেন দুর্গাচরণ। একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালালেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না।

Reading Time: 2 minutes

নাজমুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ , নীলফামারী :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের আবদারিয়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ দুর্গাচরণ রায় (৬৭) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য, অনাহার-অর্ধাহার, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং মাথার ওপর ভেঙে পড়া জীর্ণ ঘর নিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব কোনো জমিজমা না থাকায় দীর্ঘদিন আগে সেচ খালের ধারে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস শুরু করেন দুর্গাচরণ। একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালালেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। প্রায় ১০ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। একমাত্র ছেলে বিয়ে করে আলাদা বসবাস করায় বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ একাকী জীবনযাপন করছেন।
মাথায় বড় আকারের টিউমারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত দুর্গাচরণ রায়ের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। ফলে প্রতিদিন খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রতিবেশীদের সহায়তায় একবেলা খাবার মিললেও অধিকাংশ দিনই তাকে অনাহার বা অর্ধাহারে কাটাতে হয়।
দুর্গাচরণের বসবাসের ঘরটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙাচোরা টিন, পলিথিন, পুরোনো কাপড় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা ঘরটি ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে ঘরের ভেতর পানি জমে যায়। শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার মধ্যে দুর্বিষহ সময় কাটাতে হয় তাকে।
দুর্গাচরণ রায় বলেন, “আমি খুবই অসহায় মানুষ। বয়সের কারণে কাজ করতে পারি না। পেটে ভাত জোটে না। প্রতিবেশীরা যা দেয় তাই খাই। না দিলে অনাহারে থাকতে হয়। সরকারি কোনো সহায়তাও পাইনি। বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেও কোনো সুবিধা পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরে থাকা যায় না। কাপড় আর পলিথিন মাথায় দিয়ে কোনোমতে বসে থাকি। কোনো দয়ালু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আমার থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে জীবনের শেষ সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”
স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যুগেও দুর্গাচরণের মতো একজন বৃদ্ধের এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত তার জন্য সরকারি সহায়তা, বয়স্ক ভাতা, খাদ্য সহায়তা এবং নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে অসহায় বৃদ্ধ দুর্গাচরণের জীবনযাত্রার কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com