শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ন
Reading Time: 2 minutes
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
নাম মাসুরা বেগম। উচ্চতা মাত্র ৩৮ ইঞ্চি (৩ ফুট ২ ইঞ্চি)। এই ক্ষুদ্র উচ্চতা নিয়েও মা হয়েছেন তিনি। গভধারর্ণ থেকে শুরু করে প্রসবের সময় পর্যন্ত মাসুরাকে যে দুইজন চিকিৎসক তাকে দেখেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন তাদের দাবি, উচ্চতার হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় এবং এশিয়ার ক্ষুদ্রতম মা এই মাসুরা বেগম।
জানা যায়, উচ্চতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মা ২৮ ইঞ্চি উচ্চতার আমেরিকার স্টেসি হেরাল্ড। ২০০৬ সালে প্রথম সন্তান জন্ম দেন তিনি। তিন সন্তান জন্ম দেয়ার পর ২০১৮ সালে মারা যান স্টেসি হেরাল্ড। ভারতের গণমাধ্যমের দাবি, ৪১ ইঞ্চি উচ্চতার ভারতের কামাক্ষি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উচ্চতার মা। যিনি ২০১১ সালে সফলভাবে বাচ্চা প্রসব করেন। যদিও রাজশাহীর মাসুরা বেগমের উচ্চতা ৩৮ ইঞ্চি, যা কামাক্ষির চেয়েও তিন ইঞ্চি কম। মাসুরা সফলভাবে বাচ্চা প্রসব করেছেন ২০১৩ সালে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় কাজের জন্য আসেন গাইবান্ধার মনিরুল ইসলাম। ২০০৩ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন মাসুরা বেগমকে। প্রায় ১০ বছর পর ২০১৩ সালে মাসুরা বেগম একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। গর্ভকালীন শতকষ্টেও মাসুরার পাশে ছিলেন মনিরুল। গর্ভধারণের আট মাস ১০ দিন পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রায় আড়াই কেজি ওজনের কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
মাসুরার আট বছরের কন্যা মরিয়ম ইতোমধ্যে উচ্চতায় মাকে ছাড়িয়ে ৪১ ইঞ্চি উচ্চতায় পৌঁছেছে। মা-মেয়ের ভালবাসাও বেশ। এই বয়সেই মাকে নানা কাজে সহযোগিতাও করে মরিয়ম। এবার মরিয়ম পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। মাসুরা বেগমের চিকিতৎসক ছিলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনী বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক ডা. হাসিনা আক্তার ও আবাসিক সার্জন নুরে আতিয়া লাভলী। তাদের দাবি, এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মা এই মাসুরা বেগম। মাসুরা বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলাম জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে মাসুরার সঙ্গে ঘর বেঁধে সুখে সংসার করছেন তারা। শারীরিক যোগ্যতা নয়, ভালবাসা এবং ভাল থাকার জন্য প্রয়োজন সুন্দর মন। মনিরুল ইসলাম ও মাসুরা বেগমের ভালবাসা এখনো সবার কাছে উদাহরণ।
এদিকে, এই ক্ষুদ্রতম মায়ের পাশে দাড়িয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। তাকে দেয়া হয়েছে আর্থিক সহযোগিতা। বরাদ্দ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরও। আগামী ডিসেম্বরে তিনি পেয়ে যাবেন ঘর।