রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

News Headline :
রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, নাগরিক সেবায় গুরুত্ব দিতে হবে: রাসিক প্রশাসক রাজশাহীতে মাছ রপ্তানিতে কার্গো বিমান চালুর উদ্যোগ: ভূমিমন্ত্রী বদলগাছীতে ইজারা ছাড়াই খাস পুকুর দখলে বিএনপি নেতার মাছ চাষ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতে বসে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের মাধ্যমে সরকারী জমি দখল বিক্রি ও টাকা পাচারের অভিযোগ পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক সদস্যকে আটকে রাখার অভিযোগ গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক সাইদুরকে দেখতে গেলেন আরইউজে সভাপতি আব্দুল আউয়াল বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বছরে ৮ মাস ভোগান্তিতে কুমারখালীর ২ ইউনিয়নের ১ লাখ বাসিন্দা ব্রিটিশ আমলের টানেলের নিচে জলাবদ্ধতা  পাবনার সাঁথিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে ককটেল হামলা ও অগ্নিসংযোগ  ১১টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার চারঘাটে ৩৮৪ পিস ইয়াবা ও ২০ গ্রাম হেরোইনসহ একজন গ্রেপ্তার

ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতে বসে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের মাধ্যমে সরকারী জমি দখল বিক্রি ও টাকা পাচারের অভিযোগ

পরবর্তী সময়ে তারা বিহার বা সোসাইটির জন্য কোনো আবেদন না করে নিজেদের মত স্থাপনা নির্মাণ করেন। অভিযোগ রয়েছে সেখানে ৪ একর জমির দীর্ঘমেয়াদি লীজের আবেদন করা হলেও সৎসঙ্গ বিহার হাউজিং সোসাইটি ওই এলাকায় সরকারী প্রায় সাড়ে ৪শ একর খাস জমি দখলে নিয়েছে।

Reading Time: 9 minutes

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের নাতী অনিন্দ দ্রুতি চক্রবর্তি ওরফে বিংকি বাবু ভারতে বসে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্যকে দিয়ে সরকারী জমি দখল, বিক্রি ও টাকা পাচার করার একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। সৎ সঙ্গের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের সরকারী খাস জমি দখল ও তা বিক্রি করে ভারতে টাকা পাচারের কাজে জড়িত রয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফটোগ্রাফার সুমন দাস, চট্রগ্রাম সৎসঙ্গ বিহার ও হাউজিং সোসাইটির সভাপতি কৃষ্ণাশীষ দাস ওরফে কৃষ্ণ দাস, সাধারণ সম্পাদক আশিষ চৌধুরী, অমল রায়, আশিষ বশাক, ফয়সালসহ আরো অনেকে।

বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে অবাক করা এসব তথ্য উঠে এসেছে। ধর্মীয় অবেগকে কাজে লাগিয়ে সরকারী জমি ও বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে বিক্রি ও দখলের পায়তারা করছে বিংকি বাবু ও সুব্রত আদিত্য এবং তার দোষররা। চট্রগ্রামে প্রায় সাড়ে ৪শ একর জমির উপর সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ হাউজিং সোসাইটির নামে সরকারী খাস সম্পর্তি দখল করে তা প্লট আকারে বিক্রি শুরু করেছে। একই চক্র পাবনা মানসিক হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সেখানে প্রায় ২/৩ একর যায়গা দখলের পায়তারা করছে।

চট্রগ্রামের বাকুলিয়ায় কল্পলোক আবাসিকের সঙ্গে লাগানো সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ বিহার হাউজিং সোসাইটি

বিভিন্ন তথ্যে সুত্রে জানা যায়, চট্রগ্রামের বাকুলিয়ায় কল্পলোক আবাসিকের সঙ্গে লাগানো সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ বিহার হাউজিং সোসাইটির নামে সরকারী খাস জমি দখল করে তার উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক হিন্দুত্ববাদী স¤্রাজ্য। যেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বি ছাড়া অন্য কেউ প্লট ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। লোকজন বলছে এটা হিন্দু নগরী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
একাধিক সুত্র ও সৎসঙ্গ বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারী খাস জমি বরাদ্ধের জন্য ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন তৎকালিন সৎসঙ্গ বিহারের সভাপতি।
এরপর পর্যালোচনা করে ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাবিত পত্রে মৌজা রেটসহ ওই জায়গার মূল্যের তালিকার ফর্দ ভুমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরণ করেন।
”সেই পত্র থেকে জানা যায়, সৎসঙ্গ বিহার, চট্টগ্রাম এর অনুকুলে বাকলিয়া (বন্দর) মৌজার বি.এস ৪৭০৬ দাগের ৫ একর জমির প্রস্তাব করা হয়েছে। কানুনগো কর্তৃক সেলামি মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকলিয়া (বন্দর) মৌজায় ০.০১ একর (১ শতক) নাল জমির গড় মূল্য সাত লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। সেই হিসাবে প্রস্তাবিত ৫ একর নাল জমির গড় মূল্য হয় ৩৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত জমি সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নীতিমালা অনুসারে ৩ গুণ হারে সেলামি মূল্য হবে ১১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা, ১৯৯৫ এর ৩.০ (খ) অনুচ্ছেদের আলোকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের ১০% হারে হলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু সেই সেলামি মূল্যের কথা শুনে পিছু হটে সৎসঙ্গ বিহার। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি অকৃষি খাস জমি দীর্ঘমেয়াদি পাঁচ একর বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য আবেদন করে সৎসঙ্গ বিহার।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে আবেদনটি পাঠালে ২০২০ সালের ১ মার্চ ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি-১ অধিশাখার উপ-সচিব ইশরাত জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ একরের পরিবর্তে চার একর অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত প্রস্তাব পাঠাতে বলেন। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত জমির মামলা সংক্রান্ত প্রত্যায়ন, প্রস্তাবিত জমির বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে প্রেরণ এবং সিটি কর্পোরেশনের ছাড়পত্র/অনাপত্তি প্রেরণ করতে বলা হয়। সুত্র ঢাকা মেইল ২৩ আগষ্ট ২০২৫।”
কিন্তু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এখনও ভূমি অফিস থেকে এসব কাগজের কপি না আসায় বন্দোবস্তের বিষয়টি ধামাচাপা থাকে। পরবর্তী সময়ে তারা বিহার বা সোসাইটির জন্য কোনো আবেদন না করে নিজেদের মত স্থাপনা নির্মাণ করেন। অভিযোগ রয়েছে সেখানে ৪ একর জমির দীর্ঘমেয়াদি লীজের আবেদন করা হলেও সৎসঙ্গ বিহার সোসাইটি ওই এলাকায় সরকারী প্রায় সাড়ে ৪শ একর খাস জমি দখলে নিয়েছে। দখলে নেওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফটোগ্রাফার সুমন দাস প্রভাব বিস্তার করে তারা কর্ণফুলি নদী থেকে সরকারী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে পুরো এলাকা ভরাট করেছে। এরপর তারা প্লট আকারে বিক্রি শুরু করেন।

চট্রগ্রামে প্রায় সাড়ে ৪শ একর জমির উপর সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ হাউজিং সোসাইটির নামে সরকারী খাস সম্পর্তি দখল করে তা প্লট আকারে বিক্রি শুরু

এদিকে সৎসঙ্গ বিহার সুত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই সৎসঙ্গ বিহারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনিন্দ দ্রুতি চক্রবর্তি ওরফে বিংকি বাবু ও তার মা এবং সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য সৎসঙ্গ বিহারের মন্দির ও হাউজিং সোসাইটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মুঞ্জুর আলম। এরপর থেকে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্যর নেতৃত্বে সভাপতি কৃষ্ণাশীষ দাস ও সাধারণ সম্পাদক আশিষ চৌধুরী জমির প্লট বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে কাঠা প্রতি ৫লাখ টাকা দাম নির্ধরণ করা হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। এসব টাকা ভাগবাটোয়ারার পর চলে যাচ্ছে সৎসঙ্গ ইন্ডিয়ার সহ ডেমোনেস্টর আচার্য দেবের ছোট ভাই অনিন্দ দ্রুতি চক্রবর্তি ওরফে বিংকি বাবুর কাছে।
এদিকে চট্রগ্রামের জমি দখলের পর এবার নজর পড়েছে পাবনার মানসিক হাসপাতালের জায়গার উপর। ২০১৩ সালে পাবনা প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে এবং মানসিক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দিয়ে তারা হাইকোর্ট থেকে ঠাকুরের আতুুর ঘর দাবি করে ৬২ শতক যায়গার রায় তাদের পক্ষে নিয়ে আসেন। এরপর শত শত অনুকুল ভক্তদের সাথে নিয়ে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ভক্তরা পুজা অর্চনা শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার রুপ ধারন করেছিল। একপর্যায়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারীবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঠাকুর ভক্তদের হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দিতে বাধ্য হন।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে গেল জুন মাসে পাবনা মানষিক হাসপাতালে উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পরিত্যাক্ত ভবন অপসারন করে নতুন বহুতল ভবন নির্মানের টেন্ডার আহবান করে পাবনা গণপুর্ত বিভাগ। টেন্ডার আহবানের পর সৎসঙ্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফারের সাথে লেন-দেনের মাধ্যমে পাবনায় এসে সরকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। পরিত্যাক্ত ভবন ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের মাতৃমন্দির এবং বিজ্ঞানাগার বলে সৎসঙ্গের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন।

এদিকে চট্রগ্রামের জমি দখলের পর এবার নজর পড়েছে পাবনার মানসিক হাসপাতালের জায়গার উপর।

প্রায় অর্ধ শতাব্দির পর পাবনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ^াসের তদবিরে বিএনপি সরকারের নির্দেশে পাবনা মানসিক হাসপাতালের উন্নয়ন কাজ শুরু করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে টেন্ডার আহবান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগের নির্দেশে এ কাজ বন্ধ করা হয়। খালেদ হোসেন পরাগ কেন এমন নির্দেশনা দিলেন। একটি সুত্র নিশ্চিত করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফটো গ্রাফার সুমন দাস বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ফটো গ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগের মধ্যে মোটা অংকের টাকা লেন-দেন হয়। খালেদ হোসেন পরাগ পাবনার জেলা প্রশাসক এবং গণপুর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরকে দিয়ে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার কার্যালয়, গণপুর্ত কার্যালয় এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে এ টেন্ডার বন্ধের সকল প্রক্রিয়া দেখভাল করেন, পরাগের পাবনার ব্যাক্তিগত সহকারী হিসাবে পরিচিত এফ এম আবু জার ওরফে ফয়সাল। হিন্দুদের প্রতিনিধি হিসাবে তদারকি করেন, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ ও পাবনা জেলা হিন্দু মহাজোটের নেতা শ্রী আশিষ কুমার বশাক। টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ করেই ষড়যন্ত্রকারীরা দমে যাননি। ঘটনাটি ফলাও করে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে এবারও টেন্ডারের কার্যক্রম স্থগিত দেখিয়ে তারা হাইকোর্টে রিট করে পুরো মানসিক হাসপাতালটির জমি গ্রাস করার হীন কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। হিন্দু মহাজোটের নেতা আশিষ কুমার বশাক গাইবান্ধার রাম মন্দিরের মত পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের মুর্তি বানিয়ে হাসপাতালটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

খালেদ হোসেন পরাগ পাবনার জেলা প্রশাসক এবং গণপুর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরকে দিয়ে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করেন

এতে সহযোগিতা করছেন, খালেদ হোসেন পরাগ, আওয়ামীলীগ নেতা আশিষ কুমার বশাক, এফএম আবু জার ওরফে ফয়সাল সহ আত্মগোপনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা।
সম্প্রতি গত ২জুন ২০২৬ ইং তারিখে দৈনিক বাংলা নিউজের ওনলাইন ভার্সনে ” পাবনায় ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের স্মৃতি বিজরিত ২ ভবনের নিলাম স্থগিত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাশেদ কবির ওই প্রতিবেদককে জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি পুরাতন ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের জন্য বুধবার থেকে দরপত্র আহ্বান করার কথা ছিল। যার মধ্যে এই দুটি ভবনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ভবন দুটি নিলাম কার্যক্রম স্থাগিত করা হয়।
পাবনা জেলা ও দায়রা জজের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার জুয়েল খান বলেন, সরকারী যায়গায় যত স্থাপনা থাকুক না কেন সেগুলো অপসারন করে, নতুন ভবন তৈরীতে কোন বাধা নেই। সরকার যখন অধিগ্রহন করে, তখন সেখানে যাবতীয় স্থাপনার ন্যায্য মুল্য পরিশোধ করে তা অধিগ্রহন করেন। সেখানে যদি কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকে সেটাও সরকার দেখ ভাল করে। এখানে আবেগের কোন স্থান নেই। বরং যারা টেন্ডার বাতিল করেছে, তারাই সরকারের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ করছে। কোন সরকারই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবমুল্যায়ন করে না। তিনি এও বলেন, আমার জানামতে মানসিক হাসপাতালের সীমানার প্রাচীরের মধ্যে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের মন্দীর বা স্থাপনা নেই।
হেমায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুন্তাজ আলী বলেন, গত বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের ভক্তদের দাবির মুখে, সরকার একটি কমিটি গঠন করে স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন। কমিটি সেখানে পরিদর্শন করে আদৌ কোন মন্দির, আতুর ঘর বা বিজ্ঞান ভবন ছিল না মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির আলম বলেন, ঠাকুরের ভক্তদের দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট। সেখানে কোন মন্দির বা বিজ্ঞান ভবন কোন দিনও ছিল না। যখন পাকিস্থান সরকার অধিগ্রহন করে তখন সেখানে হিন্দু ও মুসলিমদের বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি ছিল। অধিগ্রহনকৃত সীমানার মধ্যে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের জমি ছিল। সরকার অধিগ্রহনকৃত যায়গার মালিকদের ন্যায্য মুল্য প্রদান করার পর সবাই মালিকানা ছেড়ে চলে যায়। অধিগ্রহনকৃত যায়গার একটি অংশে বর্তমান ভগ্নপ্রায় ভবন দুটি রয়েছে। যা অধিগ্রহনের পরপরই পরিত্যাক্ত হিসাবে ফেলে রাখে কর্তৃপক্ষ।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য বলেন, পাবনার মানসিক হাসপাতালের উন্নয়ন কাজ বন্ধের কোন উদ্যোগ তারা গ্রহন করেননি। সরকারের কোন উন্নয়ন কাজ বন্ধ করার ইচ্ছা তাদের নেই। তবে ঠাকুরের ব্যাবহৃত জিনিসপত্র ও বিশ^বিজ্ঞান কেন্দ্র সংরক্ষন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে তিনি উন্নয়ন কাজ বন্ধের কথা অস্বিকার করলেও ভগ্নপ্রায় পুরাতন ভবনটিকে সংরক্ষনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। ভগ্নপ্রায় ভবন অপসারনের বাধাগ্রস্থ করার চক্রান্তের সাথে নিয়োজিত সৎসঙ্গ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ। তিনি এও জানান, প্রয়োজনে হিন্দু কমিউনিটি নিয়ে ভবন অপসারনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার হুমকি দেন।
তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়. ইতিপুর্বে আপনারা বিশ^বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং মাতৃমন্দিরের জন্য সরকারের কাছে কি কোন দাবি বা আবেদন করেছেন বা তার কোন প্রমানপত্র আছে কি ? সরকার যখন উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নিল, তখন আপনারা এটা বাধা দিলেন কেন? তিনি বলেন ইতিপুর্বে সরকারের কাছে তারা দাবি জানিয়েছেন, তাৎক্ষনাত প্রমান চাইলে তা তিনি দিতে অপরাগত প্রকাশ করেন। তার কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়, আপনারা সৎসঙ্গি বিভিন্ন দফতরে না গিয়ে স্থাণীয় আওয়ামীলীগ দোষরদের নিয়ে কেন প্রশাসনের কাছে গেলেন। এ ব্যাপারে তিনি কোন মনতব্য করেননি। তিনি আরো জানান, চট্রগ্রামের সৎসঙ্গ বিহার নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে সরকারের কাছে একটা আবেদন করা আছে। অনুমোদন ছাড়া সরকারী যায়গায় মন্দির বা কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। সেখানে আবাসিক প্লট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, যদি সৎসঙ্গের নাম বা পদবী ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিংকি দা ঠাকুরের নাতী। তিনি ও তার মা চিটাগাং এর সৎসঙ্গ বিহারের এসে রাত্রী যাপন করেন এবং ভক্তদের পদধুলি দেন, মন্দিরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। তিনি এও বলেন, সরকারী জমিতে জোরপুর্বক দখল করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব না। চট্রগ্রামের সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ হাউজিং অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য স্বীকার করেন। সরকারী যায়গায় মন্দির নির্মান ও হাউজিং সোসাইটি বানিয়ে সরকারী জমি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চট্রগ্রাম সৎসঙ্গ বিহারের সভাপতি কৃষ্ণাশীষ দাস, সাধারণ সম্পাদক আশিষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বৈঠক ডেকে পরবর্তি বব্যস্থা গ্রহন করবো। সৎসঙ্গিদের দাবিকৃত পাবনা মানসিক হাসপাতালের যায়গার উপর পরিত্যাক্ত ভবন অপসারন করে নতুন বহুতল ভবনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিরা সৎসঙ্গি কতিপয় ভুমিদস্যু নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে পরিত্যাক্ত ভবন অক্ষুন্ন রেখে পাশর্^বর্তি যায়গায় নতুন ভবন তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছে।

ভুমিদস্যুদের সদস্য সৎসঙ্গি সনৎ ঘোষ বলেন, সৎসঙ্গ বিহার অনেক আগে থেকে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের যায়গায় অনেকদিন আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মন্দির স্থাপন করা হয়েছে। অনেক দিন ধরেই সেখানে ধর্র্মীয় অনুষ্ঠান চলছে এবং চলমান রয়েছে। বৈধ বা অবৈধ ডিসিসান আমি বা আপনি দিতে পারেন না, সেটা সরকার বা কর্তৃপক্ষ দিবে বলে লাইন কেটে দেন।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশ সহ সভাপতি প্রদীপ দেবনাথ বলেন, যায়গা বরাদ্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অনুমোদন নিতে পারেননি কেন এবং এই অবৈধ যায়গায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা এখানে আসেন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী এমপিরাও এখানে আসেন, তাদের মাধ্যমে জায়গা অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাউজিং সোসাইটিতে আমার কোন প্লট নেই বা প্লট বিক্রির সাথে আমি জড়িত না। তবে অনিন্দ দ্রুতি চক্রবর্তি ওরফে বিংকি বাবু যখন এখানে এসেছিল তখন আমি সেখানে ছিলাম। তিনি অবৈধ কিছু করেছেন কিনা এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না। দখলকৃত বেশিরভাগ যায়গায় প্লট তৈরী করে সভাপতি কৃষ্ণাদাস এবং সাধারণ সম্পাদক আশিষ চৌধুরী বিক্রি করছেন। যারা অবৈধ প্লট বিক্রি করেছেন এবং ক্রয় করেছেন তারা উভয়ে অপরাধি। এ ব্যাপারে কৃষ্ণদাস ও আশিষ চৌধুরীর বক্তব্যে জানতে তাদেও মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তা তারা রিসিভ করেননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত ফটো গ্রাফার বলেন, আমি তথ্য মন্ত্রানালয়ের অধিনে চাকুরী করি। তথ্য মন্ত্রানালয় আমাকে যখন যেখানে দায়িত্ব দেন, আমি সেখানে সে দায়িত্ব পালন করি। পাবনার মানসিক হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধের কথা অস্বিকার করে বলেন, আমি চট্রগ্রামের লোক, চট্রগ্রামের ঠাকুরের বিভিন্ন মন্দিরের কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তিনি বাকুলিয়ার সৎসঙ্গ বিহার ও হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতের কথা স্বীকার করেন। তিনি এও বলেন, বিগত সরকারের আমলে সরকারের কাছে আবেদন করে বিধি বিধান মেনে মন্দির বা হাউজিং সোসাইটি গড়ে তোলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্যকে একাধিক দিন ও একাধিকবার মোবাইলে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে তার হোয়াটঅ্যাপে কথা বলার জন্য ম্যাসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোন উত্তর দেন নাই।
ডিসি অফিসের কর্মকর্তা ডিসি রাজিব বলেন হাউজিং সোসাইটিতে আমার কোন প্লট নেই । গ্রুপিং শুরুর পর থেকে একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার নাম ব্যবহার করছে।

চট্রগ্রামের বাকুলিয়ায় কল্পলোক আবাসিকের সঙ্গে লাগানো সৎসঙ্গ বিহার ও সৎসঙ্গ বিহার হাউজিং সোসাইটির নামে সরকারী খাস জমি দখল করে তার উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক হিন্দুত্ববাদী সম্রাজ্য

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com